সব
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

করোনার পরের পৃথিবী কী আগের মতো হবে?

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ০০:০১
কোভিড দেশে দেশে, মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতার এক দেয়াল তুলে দিয়েছে। দুজন মানুষের মধ্যে এখন মুখোশের যে ঘেরাটোপ, তা নৈকট্য না বাড়িয়ে দূরত্ব তৈরির ব্যবস্থা করেছে। এটা আপাতত করোনার বিপদ থেকে আত্মরক্ষার হাতিয়ার হলেও এটাই যদি হয়ে যায় স্থায়ী নিদান, তাহলে মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা বেড়ে কী অবস্থা দাঁড়াবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না

শীতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হলেও তা হয়নি। ঢেউ দেখা যাচ্ছে শীত চলে যাওয়ার পর। গত কয়দিনে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ খালি নেই। পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৩১ জেলার মধ্যে ১৫টিতেই আইসিইউ নেই। ১০ মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের এই গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য।

করোনার বিপদ আবার বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের লকডাউন দেয়া হয়েছে। মাদ্রাসা ছাড়া আর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত বছরের মার্চ মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে। এটা ঠিক যে, করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার অন্য অনেক দেশের তুলনায় কম । এত ঘনবসতির দেশে কীভাবে এটা সম্ভব হলো, তা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়েছে বলে জানা যায়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা মোকাবিলার জন্য সচেতনতার ঘাটতি শুরু থেকেই ছিল। এখনো অবস্থার খুব পরিবর্তন চোখে পড়ছে না। মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীনতা এখনো দূর হয়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের নিরলস চেষ্টায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই করোনার টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। কয়েকটি দেশে করোনার টিকা গ্রহণ শুরুও হয়েছে। তারপরও করোনা নতুন করে দেশে দেশে তার ভয়ংকর চেহারা দেখাতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে এখন যে ধরনের করোনা ছড়িয়ে পড়ছে, তার শক্তি নাকি আগেরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।

করোনা মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি- সবকিছুর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত এক বছরে এই ভাইরাস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কেন, কীভাবে এই ভাইরাস মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ল এবং মহামারি আকারে দেখা দিল, তার কোনো সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য উত্তর পাওয়া গেছে বলে মনে হয় না। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করছে, কোনো গবেষণাগার থেকে নয়, প্রাণিদেহ থেকেই এর বিস্তার হয়েছে।

কোভিড-১৯ হিসেবে পরিচিত এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসক তথা সরকার এক রকম পদক্ষেপ নিয়েছে বা একই দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে, সেটা বলা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা, পরীক্ষা করা, আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিন– এসব ব্যবস্থার পক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জোরালো সুপারিশ ও নির্দেশ থাকলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে গড়িমসি, অনীহা এবং উদাসীনতা একেক দেশে একেক মাত্রায় দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্ষমতাসীন বা শাসকদের মতাদর্শ, নীতি এ ক্ষেত্রে প্রভাবক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে হয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রশ্নে একই নীতি বা পদক্ষেপ নেননি। দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবস্থানের ভিন্নতা করোনার তাণ্ডব রোধে ভিন্ন ফল অবশ্যই দেখা গেছে। 

করোনায় সংক্রমণ এবং মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে আমেরিকার নাম। এরপরই ব্রাজিল। এই দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের প্রশাসন শুরু থেকেই করোনা নিয়ে সীমাহীন উপেক্ষার মনোভাব দেখিয়েছে। আমেরিকার ট্রাম্প আগাগোড়া করোনার ভয়াবহতাকে অস্বীকার করেছেন। মাস্ক ব্যবহারে প্রবল অনীহা তার সমর্থকদেরও প্রভাবিত করেছে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ার পরও আমেরিকায় করোনা মোকাবিলায় সফলতা পাওয়া যায়নি মূলত ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার জন্য। করোনা প্রতিরোধে যে কঠোরতা দরকার ছিল, তা অগ্রাহ্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি নিজে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থেকেছেন। করোনার উৎস হিসেবে চীনকে দোষারোপ করে নিজের দায়িত্ব পালনে অবহেলা দেখিয়েছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘাড়ে দায় চাপিয়ে এই সংস্থার সমালোচনা করেছেন এবং দেয়া টাকাও বন্ধ করেছেন। ট্রাম্পের অদূরদর্শিতার জন্য লাখ লাখ মার্কিনিকে প্রাণ দিতে হয়েছে করোনা মহামারিতে।

ট্রাম্পের মতোই আচরণ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। তার প্রশাসনও করোনাকে পাত্তা না দেয়ার নীতি নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কারণ ঘটিয়েছে। বলসোনারো শুরু থেকেই করোনাকে সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গে তুলনা করে প্রতিকার হিসেবে ক্লোরোকুইন ব্যবহারের কথা বলেছিলেন। এখনো সে দেশের কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া কোভিড ভাইরাসের বিপজ্জনক স্ট্রেনকে ব্রাজিল প্রশাসন গুরুত্ব দিতে চাইছে না। অথচ সে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই।

আমেরিকার ট্রাম্প এবং ব্রাজিলের বলসেনারো– দুজনই রাজনীতিতে কট্টর ডান ধারার অনুসারী। আচার-আচরণেও তারা স্বেচ্ছাচারী, একনায়কসুলভ। এক মতাদর্শে বিশ্বাসী এই দুই শাসকের মনোভাব দেখে কি এটা বলা যাবে যে, করোনা মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে? না, এমন সহজ সরল উত্তর দেয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের হাতে নেই। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় যে, প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় করোনা মহামারিতে মৃত্যুর হার যে দশটি দেশে সবচেয়ে কম, তার মধ্যে আটটিতে চালু আছে সাংবিধানিক গণতন্ত্র। দেশ আটটি হলো অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, আইসল্যান্ড, ভারত, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান। চীন ও ভিয়েতনামেও মৃত্যুহার কম। তবে এই দুই দেশেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নেই। 

অন্যদিকে মৃত্যুহারের বিবেচনায় যেসব দেশ সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে, তার দশটি দেশই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত। এই দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইতালি, মেক্সিকো, স্পেন, সুইডেন, ইংল্যান্ড ও আমেরিকা। করোনা মোকাবিলায় ইংল্যান্ড ও আমেরিকার ব্যর্থতা সবাইকে বিস্মিত করে। কারণ এই দুটি দেশে বহু শতক ধরে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে।

আবার এটাও লক্ষ করার বিষয় যে, করোনা মহামারির কারণে বহু দেশেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রীতিনীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহেলা করা হয়েছে বা হচ্ছে। এই সময়কালে অন্তত ৬০টি দেশ এবং রাজ্যে জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে বা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েকটি দেশে মহামারির অজুহাতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে শাসকদের সুবিধামতো আইন চালু করা হয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান মহামারির জরুরিকাল শেষ হলেও অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজের শাসনক্ষমতা বহাল রাখার মতো একটি আইন জারি করেছেন। হংকংয়ের জন্য একটি বিশেষ নিরাপত্তা আইন করেছে চীন। এই আইনের বিধিবলে হংকংয়ে যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদ, তা অহিংস হলেও দমন করা সহজ হবে। করোনার কারণে শ্রীলঙ্কাতেও সামরিক বাহিনীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে প্রতিবেশী ভারতেও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে নির্বাচন বন্ধ না হলেও নাগরিকদের অধিকার আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের পীড়নের নীতি কঠোর থেকে কঠোর হচ্ছে। ভারতীয় গণতন্ত্র করোনার কারণে আরো আক্রান্ত হচ্ছে বলে সমালোচনা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও করোনার অজুহাতে কোনো নির্বাচন গত এক বছরে বন্ধ থাকেনি। শূন্য হওয়া কয়েকটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ছাড়াও এই সময়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের নতুন করে বিস্তার ঘটায় এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠেয় কিছু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। 

বিশেষ কোনো ব্যাধি বা মহামারি যখন মৃত্যুর বিভীষিকা হয়ে দেখা দেয়, তখন তার প্রতিক্রিয়া শুধু ব্যক্তিমানুষের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজ এবং রাষ্ট্রও তার প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলিত বা আলোড়িত হয়। রাজনীতি যেহেতু রাষ্ট্র এবং সরকারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক শক্তি, সেহেতু রাজনীতির হিসাব-নিকাশ এবং গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ধারিত হয় মহামারির প্রকোপ দ্বারা। সরকারে যারা থাকেন, তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির ওপর মহামারি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া, সাফল্য ও ব্যর্থতা কিছুটা যে নির্ভর করে, তা ওপরের আলোচনা থেকে সামান্য হলেও আন্দাজ করা যায়। তবে মহামারি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া, সাফল্য ও ব্যর্থতার ওপর যে একটি দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, সেটা বোঝা গেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপালিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। 

অতীতের মহামারি, যেমন মধ্যযুগের বিউবনিক প্লেগ বা উনিশ শতকের প্রথমার্ধের কলেরা বা বিংশ শতাব্দীর সূচনায় স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির পর আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক অভিঘাতের দিকে চোখ ফেরালেও এটা বলা যায় যে, কোভিড-১৯ মহামারিও দেশে দেশে রাজনীতির চিত্রপটে পরিবর্তন আনতে পারে। করোনার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচারে যেমন পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনি কোনো কোনো দেশে রাজনৈতিক পরিসর থেকে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার কোথাও ভিন্ন চিত্র দেখা গেলেও বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। 

করোনা বা কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার আগের কিছু মহামারি থেকে এখনো কম থাকলেও এই সংখ্যা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত কোভিডে বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষ বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করছেন। এক শতক আগের স্প্যানিশ ফ্লুতে বেশি আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা, যারা ছিলেন শ্রমশক্তির একটা বড় অংশ। ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উৎপাদন এবং কমে গিয়েছিল জাতীয় আয়। অর্থনৈতিক পুনরুত্থানও ধীরগতিতে হয়েছিল। করোনা মহামারির কারণে শ্রমের জোগানে খুব বেশি হেরফের না হলেও শ্রমের চাহিদায় একটি স্থায়ী পরিবর্তন ঘটাতে পারে। মহামারির কারণে ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেসব অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেগুলোই পাকাপাকি হয়ে গেলে শ্রমবাজারে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কোভিড মহামারির ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে যে প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বা দেবে, তা মোকাবিলা করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া আদৌ আর সম্ভব হবে কি না, দেখার বিষয় সেটাও।

কোভিড দেশে দেশে, মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতার এক দেয়াল তুলে দিয়েছে। দুজন মানুষের মধ্যে এখন মুখোশের যে ঘেরাটোপ, তা নৈকট্য না বাড়িয়ে দূরত্ব তৈরির ব্যবস্থা করেছে। এটা আপাতত করোনার বিপদ থেকে আত্মরক্ষার হাতিয়ার হলেও এটাই যদি হয়ে যায় স্থায়ী নিদান, তাহলে মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা বেড়ে কী অবস্থা দাঁড়াবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

কোনো মহামারিই চিরস্থায়ী হয় না। অনেক কিছু হারিয়ে, অনেক ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়ে একসময় সব ঠিক হয়ে যায়। করোনার বিপদও একসময় কেটে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, করোনা-পরবর্তী পৃথিবী কি আগের মতোই স্বাভাবিকতায় ফিরতে পারবে? যদি আগের মতো না হয়, তাহলে কেমন হবে আগামী পৃথিবী? হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্মোন্মাদনা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহমুক্ত শান্তির ও সব মানুষের বাসযোগ্য পৃথিবীর প্রত্যাশা পূরণ হবে কি? 

 

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সারাক্ষণ মতামতের বৈচিত্র্যে বিশ্বাস করে। এই লেখার বিষয়ে কারো যদি কোন ভিন্নমত থাকে তাহলে অনূর্ধ্ব ৪০০ শব্দের মধ্যে লিখে পাঠান আমাদের কাছে। সারাক্ষণ আপনার ভিন্নমত সাদরে গ্রহণ করবে। আপনার ভিন্নমত প্রকাশ হবে পাঠকের অভিমত কলামে। সঙ্গে আপনার নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয়, ছবি ও ফোন নম্বর পাঠাবেন, যা আপনার লেখার সঙ্গে প্রকাশ হবে। ভিন্নমত পাঠানোর ই-মেইল : ‍[email protected]
মতামত বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : ‍[email protected]
বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ
ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ

মামুনুল হক: ধর্মব্যবসায়ীর কুৎসিত চেহারা
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক

মামুনুল হক: ধর্মব্যবসায়ীর কুৎসিত চেহারা

টাইম ম্যানেজমেন্ট, নাকি টাইম প্রায়োরাটাইজেশন?
জিয়া হাসান

টাইম ম্যানেজমেন্ট, নাকি টাইম প্রায়োরাটাইজেশন?

লেবাসধারীদের জন্য কি সবকিছুই জায়েজ?
প্রভাষ আমিন

লেবাসধারীদের জন্য কি সবকিছুই জায়েজ?