সব
রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭
DBBL Ad

পুলিশের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন ওমরাহ করতে গিয়ে অসুস্থ বাংলাদেশি

উত্তরায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোচালকের মৃত্যু

ট্যাকা দেও, এক কেজি চাল কিনবো : কাঙ্গালিনী সুফিয়া

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ২০:৪২

‘বাবারে কথা কমু কীভাবে, দুই দিন ঘরে চাল নাই। ট্যাকা দাও এক কেজি চাল কিনবো’ এমনই কাতর কণ্ঠ এখন কাঙ্গালিনী সুফিয়ার। অথচ একদিন তারই সুরেলা কন্ঠে ভরা ছিল সঙ্গীত জগৎ।

কাঙ্গালিনী সুফিয়া এখনো সঙ্গীত প্রেমিদের কাছে একটি জনপ্রিয় নাম। তাকে কে না চেনে! এমন একজন খ্যাতনামা লোকসঙ্গীত শিল্পীকে না চেনার কোনো কারণও নেই। ‘পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গানটি শোনেনি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। এছাড়া ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই, নারীর কাছে কেউ যায় না, আমার ভাঁটি গাঙের নাইয়া, আমার দেহ চলে না’ ইত্যাদি গানের মাধ্যমে সঙ্গীত প্রেমিদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

সুফিয়ার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। বাবার নাম খোকন হালদার ও মায়ের নাম টুলু হালদার। ১৯৬১ সালে বর্তমান রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জনপ্রিয় এই লোকসঙ্গীত শিল্পী। অভাব-অনটনের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি বেশিদূর। তবে গানের প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ।

ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময়ও গাইতেন মনের সুখে গান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রামে একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তার সঙ্গীত জীবন। ১৫ বছর বয়সে সুধির হালদার নামের একজন বাউলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিছুদিনের ব্যবধানে ঘটে বিচ্ছেদ। এর দুবছর পরে ওস্তাদ হালিম বয়াতির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সেসময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে টুনি হালদারের পরিবর্তে সুফিয়া খাতুন নাম ধারণ করেন।

পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের আমলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক ডিজি মুস্তফা মনোয়ার তাকে এই ‘কাঙ্গালিনী’ উপাধি দেন। এরপর থেকেই মূলত তিনি সুফিয়া খাতুন থেকে কাঙ্গালিনী সুফিয়া নামে পরিচিত হন।

বাংলাদেশের লোকসঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে সুফিয়া অন্যতম। তার মোট রচিত গানের সংখ্যা প্রায় পাঁচশ। দেশের বাইরেও তিনি গান গেয়ে সুনাম অর্জন করেছেন। অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। গানের পাশাপাশি দেয়াল, নোনাজলের গল্পসহ প্রভৃতি নাটকেও করেছেন অভিনয়। এছাড়াও ১৯৯৭ সালে বুকের ভেতর আগুন নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সঙ্গীত জগতে এতো বড় অবদান যার, একবারও কী আমরা কখনো জানতে চেয়েছি তিনি কেমন আছেন। বয়সের ভারে সুফিয়া এখন চলাচলে অক্ষমপ্রায়। দিনের অধিকাংশ সময় বিছানায় শুয়েই কাটিয়ে দেন। অধিকাংশ সময়ে ঘরে থাকেন না খাবার। অর্ধাহারে-অনাহারেই কাটাচ্ছেন দিন। যার সঙ্গেই দেখা হয় তার থেকেই খাবারের জন্য টাকা চেয়ে বসেন।

এইতো সেদিন তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় বললেন, ‘বাবা আমারে ট্যাকা দেও, এক কেজি চাইল কিনবো। সকাল থেইকা কিচ্ছু খাই নাই। ঘরে দুই দিন ধরে চাল নাই। হাতেও কোন ট্যাকা নাই। দোকানেও এতো ট্যাকা বাকি জমে গেছে যে, দোকানদারও আর বাকি দিবার চায় না। আগে ট্যাকা দেও, খাইয়া তারপর তোমার লগে কথা কমুনে।’

সুফিয়ার বর্তমান অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। সারা জীবন যিনি গান গেয়ে মানুষের মন ভরিয়েছেন, যার মাধ্যমে মানুষ লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন সেই শিল্পীর অবস্থা আজ এমন। খাবার ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

মাত্র চার মাস আগে গত বছরের ১ নভেম্বর সুফিয়ার স্বামী বাউল সেকম মৃত্যুবরণ করেন। সংসারের পুরো দায়িত্ব নিতে হচ্ছে তাকেই। নেই উপার্জনের কোন উৎস, কিন্তু থেমে নেই খরচ, পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জটিল রোগ। যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে আরও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। নিজের খরচের পাশাপাশি নিজের মেয়ে, মেয়ে জামাই, নাতনি ও নাতনির ছেলে- মেয়েদের ভরণ পোষণের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে তাকেই।

এছাড়া এই শিল্পী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে হার্ট, কিডনি ও খাদ্যনালির সমস্যা। অভাবের কারণে করাতে পারছেন না চিকিৎসা। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কিন্তু অগ্রীম ১২ হাজার টাকা জমা দিতে না পারায় ফিরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতায় এখন আর কোন অনুষ্ঠানে গান গাইতে পারেন না। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ। আয়ের মধ্যে যেটুকু আছে তা হলো, মাস শেষে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ করা ভাতা ১০ হাজার টাকা ও বছর শেষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩৬ হাজার টাকার শিল্পী ভাতা। অর্থাৎ প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা মাত্র।

সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প বেগম জানান, ‘মায়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এতদিনে কোনো রকম ঋণ করে ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় সেটাও আর সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণভাবে ঋণ না পাওয়ায় সব টাকা সুদের ওপর নেওয়া। সুদসহ এখন সবকিছু মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো ঋণ হয়ে গেছে। কোনভাবেই এতো টাকা শোধ করতে পারছি না। ঋণদাতারা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।’

ঋণ শোধ করতে শেষ আশ্রয়স্থল বসতভিটাও বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান পুষ্প বেগম। ইতোমধ্যেই অনেকে বাড়ি দেখেও গেছেন, কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের জন্য প্রশস্ত পথ না থাকায় পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত মূল্য।

পুষ্প বেগম আরও জানান, ‘গত দুই বছর আগে মা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেসময় প্রধানমন্ত্রীর নিদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু এর আগে সাভারে অনেক অর্থ খরচ হয়ে যায়।’

বর্তমানে এই শিল্পী বাস করছেন সাভারের জামসিং এলাকায়। থাকেন মেয়ে পুষ্প বেগমের বাসায়। মেয়ে পুষ্প বেগমের অবস্থাও সংকটাপন্ন। স্বামী খসরু আলম গত এক বছর যাবৎ প্যারালাইজড। নিজে নিজে চলতেও পারেন না খসরু আলম। সুফিয়ার নাতনি শিল্পী বেগম বেশকিছু দিন যাবৎ রাজবাড়ীর ভূমি অফিসে চাকরি করে সংসারে সহায়তা করে আসছেন। কিন্তু গত দুই বছর যাবৎ কোনো বেতন পাননি। আবার হঠাৎ করেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শিল্পীকে না জানিয়েই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এতে আরও বিপাকে পড়েছে পরিবারটি।

জীবনের এই প্রান্তিক সময়ে এসে কাঙ্গালিনী সুফিয়া ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি এবং একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে করেছেন সাহায্যের আবেদন। হয়তো মমতাময়ী নেত্রী এবারও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন। এমনি প্রত্যাশা লোকশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার।

 

এসএম/

Islami Bank Ad

সাম্প্রতিক

১২, ১৩ এপ্রিলও লকডাউন

১২, ১৩ এপ্রিলও লকডাউন

মিয়ানমারে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে এক শহরেই নিহত ৮০

মিয়ানমারে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে এক শহরেই নিহত ৮০

মিতা হক রবীন্দ্রসংগীত প্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন

মিতা হক রবীন্দ্রসংগীত প্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন

প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল

প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল

হবিগঞ্জে গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত

হবিগঞ্জে গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত

পুলিশের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন ওমরাহ করতে গিয়ে অসুস্থ বাংলাদেশি

পুলিশের সহযোগিতায় দেশে ফিরলেন ওমরাহ করতে গিয়ে অসুস্থ বাংলাদেশি

উত্তরায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোচালকের মৃত্যু

উত্তরায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোচালকের মৃত্যু

‘বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান’

‘বঙ্গবন্ধুকে রক্ষার ব্যর্থতায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থান’

জুয়ার আসরে র‍্যাবের হাতে ধরা ১৬ জুয়াড়ি

জুয়ার আসরে র‍্যাবের হাতে ধরা ১৬ জুয়াড়ি

নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৩১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৩১ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কাভার্ডভ্যানে ইয়াবা-গাঁজা পাচারকালে ৫ আন্তঃজেলা মাদক চোরাকারবারি আটক

কাভার্ডভ্যানে ইয়াবা-গাঁজা পাচারকালে ৫ আন্তঃজেলা মাদক চোরাকারবারি আটক

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুম অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মাসুম অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

‘তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ’

‘তারুণ্যের মেধা ও প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ’