সব
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

মেহেরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩ বাড়ি ভস্মীভূত

আমতৈল গ্রামের মৃৎশিল্প

খননের দেড় বছরে ভদ্রা ও শালতা নদী সমতল ভূমি

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর প্রস্থ ১২০ ফুট এবং গভীরতা ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত খননের কথা ছিল। কিন্তু সব জায়গায় এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া মাটি উত্তোলন করে দু’পাশে রেখে দেয়া হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই পাশের উঁচু করে রাখা ওই মাটি ধুয়ে ফের নদীতে এসে পড়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অন্যতম অঙ্গ দিঘলিয়া ও তেলিগাতি প্রান্তে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের দু’টি স্লুইচগেট নির্মাণের কথা থাকলেও ওই দু’টি স্লুইচ গেট নির্মাণ না করেই কাজ শেষ করা হয়।

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৫৫

দুই পাড়ের উঁচু-নিচু জমিতে জন্ম নিয়েছে সরু বড় বড় গাছ। বৃক্ষরাজির ফাঁকে ফাঁকে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে আধাপাকা ও টিন-ছনের ঘরবাড়ি। মাঝখানে পানিশূন্য শুষ্ক সমতল ভূমিতে জন্মেছে সবুজ ঘাস। প্রতিদিনই ওই সবুজ ঘাসের ভূমিতে ভিড় জমাচ্ছে আশপাশের গরু-ছাগল। এছাড়া সুবিধাজনক স্থানে পথ বানিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন লোকজন। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে মাত্র দেড় বছর আগে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা ও শালতা নদী খনন করা হয়। তার ১৮ মাসের মধ্যে বর্তমানে এ চিত্র। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী খননের যে আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা ভেস্তে গেছে।

সোহাগ আহমেদ ও মোক্তার হেসেনসহ একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইস্টিমেট অনুযায়ী নদীর প্রস্থ ১২০ ফুট এবং গভীরতা ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত খননের কথা ছিল। কিন্তু সব জায়গায় এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া মাটি উত্তোলন করে দু’পাশে রেখে দেয়া হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই পাশের উঁচু করে রাখা ওই মাটি ধুয়ে ফের নদীতে এসে পড়েছে। এছাড়া প্রকল্পের অন্যতম অঙ্গ দিঘলিয়া ও তেলিগাতি প্রান্তে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের দু’টি স্লুইচগেট নির্মাণের কথা থাকলেও ওই দু’টি স্লুইচ গেট নির্মাণ না করেই কাজ শেষ করা হয়।

তারা জানান, মোটা অঙ্কের ওই টাকা মন্ত্রণালয়েই ফেরত গেছে। অন্যদিকে দুই প্রান্তের বাঁধ কেটে দেয়ায় জোয়ার-ভাটায় মাত্র দেড় বছরেই পলিতে নদী ফের ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদী খননের ব্যয় হওয়া পুরো টাকা পানিতে গেছে। আর নদী খননের আসল যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সেটি পূরণ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছর আগেও ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা-শালতা নদী ঘিরে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা চলতো। জোয়ার-ভাটা, মাছ শিকার ও নৌ-যান চলাচল ছিল নিত্যদিনের চিত্র। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ছিল নদী দু’টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও নানা প্রতিকুলতার মুখে ভদ্রা ও শালতা নদীতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পলি পড়ে নাব্য হারিয়ে ভরাট হয়ে যায়। আর ভরাটের সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকজুড়ে শুরু হয় অবৈধ দখল।

প্রভাবশালীরা যে যার মতো করে ভরাট হওয়া নদী দখল করে নেয়। দখলবাজ চক্র নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভরাট হওয়া জমিতে গড়ে তোলে বসতবাড়ি, রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। ফলে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় করুণ পরিণতির সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।

এমন সব পরিস্থিতিতে ২০০৫ সালে নদী দু’টি খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়ে। এরপর উদ্যোগটি আবারো বাস্তবায়নে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ওই নদী দু’টি খননের জন্য ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) জমা দেয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সরকার ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের বৈঠকে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। যার বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সব প্রক্রিয়া শেষে ৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজগুলো পায় ও বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন এ্যান্ড কোং, হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স, কেএসএল জেভি, রানা বিল্ডার্স, সালেহ আহমেদ ও কামরুল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী ভদ্রা নদী দক্ষিণ অংশে ডুমুরিয়ার দিঘলিয়া (স্থানীয় নাম দিঘেলা) থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তর অংশের তেলিগাতি থেকে ডুমুরিয়া বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন করা হয়। এছাড়া সালতা নদীটি ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু হয়ে ৯ কিলোমিটার খনন করে শৈলমারি নদীতে সংযুক্ত করে।

অভিযোগের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, খর্নিয়ার তেলিগাতি ও টিয়াবুনিয়া বাঁধ কেটে দেয়াতে পানির সঙ্গে পলি এসে নদী ভরাট করে ফেলেছে। যার কারণে ওই বাঁধ ফের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি সমীক্ষা করছে। এতে সমাধান বের হয়ে আসবে।

অনিয়মের ব্যাপারে তিনি বলেন, নদী খনন সব জায়গায়ই নিয়মমাফিক হয়েছে। টাস্কফোর্স-এর মাধ্যমে সব যাচাই-বাচাই করে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।


/ওআর/

মেহেরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩ বাড়ি ভস্মীভূত

মেহেরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৩ বাড়ি ভস্মীভূত

আমতৈল গ্রামের মৃৎশিল্প

আমতৈল গ্রামের মৃৎশিল্প

কাঁকড়া খাওয়া বৃদ্ধা পেল মাথা গোজার ঠাঁই

কাঁকড়া খাওয়া বৃদ্ধা পেল মাথা গোজার ঠাঁই

নড়াইলে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

নড়াইলে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

খুলনার মহাসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই পুলিশি হয়রানি: অভিযোগ বিএনপির

খুলনার মহাসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই পুলিশি হয়রানি: অভিযোগ বিএনপির

খুলনায় ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না আইন, সড়ক ফুটপাত দখল

খুলনায় ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না আইন, সড়ক ফুটপাত দখল

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত

চলে গেলেন ফরিদপুরের রত্নগর্ভা মা নির্মলা রানী রায়

চলে গেলেন ফরিদপুরের রত্নগর্ভা মা নির্মলা রানী রায়

পাপুলকাণ্ড: অশুভ সংস্কৃতি

পাপুলকাণ্ড: অশুভ সংস্কৃতি

বসন্তের সাজে পরীমণি

বসন্তের সাজে পরীমণি

মেঘনা নদীতে অস্ত্রসহ ৭ ডাকাত আটক

মেঘনা নদীতে অস্ত্রসহ ৭ ডাকাত আটক

লেখক মুশতাকের মৃত্যুর বিষয়ে রাবিতে প্রতিবাদ

লেখক মুশতাকের মৃত্যুর বিষয়ে রাবিতে প্রতিবাদ

রাবির এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আরেক অধ্যাপকের থানায় জিডি

রাবির এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আরেক অধ্যাপকের থানায় জিডি

রূপগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোশিয়েশনের সেমিনার

রূপগঞ্জ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোশিয়েশনের সেমিনার