সব
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

পিপলস লিজিং : আজ উচ্চ আদালতে ডাক পড়েছে ১৩৭ ঋণখেলাপির

টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে তৈরি হচ্ছে প্রোটোকল

গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্যে বাসস্থান: বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত

এই ধরনের উদ্যোগ এক সময় শুধু সমাজতান্ত্রিক দেশে দেখা গেছে। তারা সমস্ত মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতো। কিন্তু পুঁজিবাদী দেশে বা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এমন নজির নেই বললেই চলে। এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার প্রশংসার দাবি রাখে

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩৬

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে প্রতিটি গৃহহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে ঘর দেয়া হয়েছে। যারা ঘর পাচ্ছেন তাদের মুখে যে তৃপ্তির ছাপ, তা আর কোনোভাবে পাওয়া সম্ভব না। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছার কারণে। আর এই উদ্যোগ বিশ্বে এক অনন্য নজির বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী, সমাজকর্মী, গবেষক ও ইতিহাসবিদরা।

এই ধরনের উদ্যোগকে খুবই ব্যতিক্রমী উল্লেখ করে সাবেক প্রধানবিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সারাক্ষণকে বলেন, ‘খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান পাকিস্তানি আমলে আমাদের একুশ দফায় ছিল, এগারো দফায় ছিল এবং বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরলেন তখনও তার দেশ পুনঃনির্মাণের চিন্তা ভাবনায় এসব প্রতিশ্রুতি ছিল। তিনি বলেছিলেন, আমরা খাদ্যের সমস্যা সমাধান করবো, বাসস্থানের সমস্যা সমাধান করবো। সেটারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন ২০০৮ সালের শেষের দিকে নির্বাচনী ইশতেহারে, যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে কিন্তু এটাও একটা ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করছেন। এজন্য তাকে নত মস্তকে অভিবাদন জানাই। এক বেলা না খেয়ে থাকা যেতে পারে কিন্তু মাথার উপরে যদি একটা ছাদ না থাকে তাহলে সেটা জীবনের সব থেকে বড় সমস্যা বলে মনে করি। মানুষের মাথা গোঁজার ঠাই তিনি করে দিচ্ছেন। আমরা তো সবাই মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু এর থেকে বড় মানবিক কাজ আর কিছু হতে পারে না।’

এমন উদ্যোগ বিশ্বের খুব কম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা নিতে পেরেছেন উল্লেখ করে সমাজবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুন  সারাক্ষণকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, তাদের ভালবাসতেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসাও সাধারণ মানুষের প্রতি। তাই তিনি এই ব্যাপারটি চিন্তা করতে পেরেছেন। মুজিববর্ষে এতগুলো গৃহহীন মানুষকে স্থায়ীভাবে বাসস্থান গড়ে দেওয়া একটি উপযুক্ত কাজ হয়েছে। আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত বড় পরিসরে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর তুলনা হয় না।’

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রায় আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি ঘরহীন পরিবারকে এক বছরের মধ্যে ঘর দেয়ার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য নজির মনে করেন বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সমাজবিজ্ঞানী এ এফ ইমাম আলী। সারাক্ষণকে তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেননা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকুক, না খেয়ে থাকুক, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হোক, কর্মহীন থাকুক এটা তো হতে পারে না। সুতরাং নিঃসন্দেহে এটাকে অভিনন্দন জানানো যায়। এই ধরনের উদ্যোগ এক সময় শুধু সমাজতান্ত্রিক দেশে দেখা গেছে। তারা সমস্ত মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতো। কিন্তু পুঁজিবাদী দেশে বা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এমন নজির নেই বললেই চলে। এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার প্রশংসার দাবি রাখে।’

তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তারা সেটা যথাযথভাবে পালন করছেন না। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, সেখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। এসব দেখার জন্য প্রশাসন রয়েছে, বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এসব জায়গা থেকে প্রত্যেককে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই এসব উদ্যোগ আরও বেশি ফলপ্রসূ হবে।’

দীর্ঘদিন ধরে বাসস্থানহীন মানুষের জন্য আবাসনের ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিখে ও কথা বলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী এস.এম আলম কুদ্দুসী। তিনি সারক্ষণকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরাট একটা জনগোষ্ঠি ভূমিহীন। এসব মানুষের জীবনে একটা নিজস্ব ঘর, মাথা গোজার ঠাঁই আজীবন লালিত স্বপ্ন। এসব কিছু মাথায় রেখে পিএমও’র অধীনে থেকে গৃহহীনদের যে ঘর দেওয়া হচ্ছে সেটা বেশ সাড়া ফেলেছে। কয়েক ধাপে প্রায় সাড়ে আট লাখ গৃহহীন পরিবার এসব ঘর পাবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঘর পেয়েছে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। প্রথম ধাপে কিছু অনিয়মের খবর পেলেও এক সঙ্গে এত ভূমিহীন পরিবারকে ঘর দেয়ার ঘটনা দুনিয়ার ইতিহাসে বিরল। এ উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। এধরনের কাজকে সব সময় সাধুবাদ জানানো উচিত। বাংলাদেশ সরকার যদি সতর্কতার সঙ্গে এই কাজটি চালিয়ে যেতে পারে তাহলে এসব ভূমিহীন ও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা সুবিধা-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে তারা শুধু ঘরই পাচ্ছে এমন নয়। এসব মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তাই শুধু ঘর না, ঘরের সঙ্গে এ শ্রেণির মানুষ যেন তাদের জীবন গুছিয়ে নিতে পারে সে ধরনের সহায়তাও কিন্তু সরকার করছে। আশা রাখবো যারা এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারা খুব যত্ন সহকারে কাজগুলো করবেন। তারা যদি যত্নবান হন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য সেটা শতভাগ পূরণ হবে। বিশ্বের কোথাও এরকম নজির আছে কি না আমার জানা নেই। এটা আমাদের দেশে সম্ভব হয়েছে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কারিশমার কারণে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম জামাল উদ্দীন এমন কার্যক্রমকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু ভূমিহীন মানুষের জন্য এমন উদ্যোগ কেউ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তাই তাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা শুনেছি প্রায় ১৬ লাখ গৃহহীন পরিবারকে ঘর করে দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার সেটা অবশ্যই যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং এধরনের কার্যক্রমকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এধরনের উদ্যোগ সারা বিশ্বে এটাই প্রথম বলে জানি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈনুদ্দীন মোল্লা সারাক্ষণকে বলেন, ‘দরিদ্র ও গৃহহীনদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি মহতী উদ্যোগ। মানুষের মৌলিক ও মানবিক চাহিদার মধ্যে বাসস্থান একটা। এক্ষেত্রে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অবশ্যই কল্যাণমূলক এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহত্তর পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মানুষের অধিকার নিশ্চিত ও প্রতিষ্ঠা হয়। কারণ আমি পাশ্চাত্যে যেটা দেখেছি, মানুষের প্রথম অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তার বাসস্থান। সেখান থেকেই তার অন্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেটার জন্য অবশ্যই সরকারের যে উদ্যোগ সেটাকে সব দিক থেকে বিবেচনা করে সমাজ বা মানব কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মনে করি। এছাড়া অন্য দেশে সরকারি সহায়তায় থাকার জায়গা করে দেয়া হয় কিন্তু সেটা বিনামূল্যে নয়। সামান্য হলেও কিছু অর্থ নেয়া হয় সুবিধাভোগীর কাছ থেকে। এভাবে জমি দিয়ে নতুন করে ঘর-বাড়ি বানিয়ে বাসস্থানহীন মানুষকে পুনর্বাসিত করার মতো ঘটনা অন্য কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। আমার জানার পরিধি কমও হতে পারে। তবে এই ধরনের উদ্যোগ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।’

এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার তিনটি কর্মসূচির আওতায় দেশের ভূমিহীন ঠিকানাহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ করছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। এর বাইরে আমার বাড়ি, আমার খামার প্রকল্পও রয়েছে। তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা যৌথভাবে গৃহহীনদের জন্য নেয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করবেন। অনেক আগে থেকেই এই তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন পরিবার, বেদে পরিবার ও হিজড়াসহ বিভিন্ন কারণে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়েছেন তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এসব প্রকল্পের অনেক বাড়িঘর সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবার অনেক বাড়ি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রায় ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি ঘরে থাকবে দুটি রুম, একটি করিডোর, একটি বাথরুম ও একটি রান্নাঘর। দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর হবে টেকসই এবং প্রতিটি ঘরেই থাকবে সোলার সিস্টেম আর বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা।

এনএইচ/শাআ/

Islami Bank Ad
পিপলস লিজিং : আজ উচ্চ আদালতে ডাক পড়েছে ১৩৭ ঋণখেলাপির

পিপলস লিজিং : আজ উচ্চ আদালতে ডাক পড়েছে ১৩৭ ঋণখেলাপির

টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে তৈরি হচ্ছে প্রোটোকল

টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে তৈরি হচ্ছে প্রোটোকল

পিলখানা ট্রাজেডির ১২তম বার্ষিকী আজ

পিলখানা ট্রাজেডির ১২তম বার্ষিকী আজ

ঢাকায় পৌঁছেছে ‘আকাশ তরী’

ঢাকায় পৌঁছেছে ‘আকাশ তরী’

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

আইজিপি'র সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিএনপি আশ্বস্ত

আইজিপি'র সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিএনপি আশ্বস্ত

টিকা নিলেন ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮ জন

টিকা নিলেন ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮ জন

নারায়ণগঞ্জে পিপি ওয়াজেদ আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা

নারায়ণগঞ্জে পিপি ওয়াজেদ আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা