সব
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন

বিএসএমএমইউ’র সিন্ডিকেট সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের জরিপ

স্কুল খোলার বিপক্ষে অধিকাংশ অভিভাবক

৫৪ দশমিক সাত শতাংশ অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদবোধ করছেন না। তবে ৬৮ শতাংশ শিক্ষক স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ মনে করছেন।

স্বাস্থ্যনির্দেশিকা অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার অতিরিক্ত ব্যয়ভার পূরণ করতে সরকারি অনুদানের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষকরা।

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:১৪

করোনার এ সময়ে ৫৪ দশমিক সাত শতাংশ অভিভাবক সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদবোধ করছেন না। তবে ৬৮ শতাংশ শিক্ষক স্কুলে যেতে যাচ্চেন। তারা স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ মনে করছেন। অভিভাবক ও শিক্ষক ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৫০ ভাগ মানুষ স্কুল খোলা উচিত বলে মনে করেন। যদিও এদের মধ্যে ৫২ শতাংশ মনে করেন, এতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সমান নয়। স্বাস্থ্যনির্দেশিকা অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার অতিরিক্ত ব্যয়ভার পূরণ করতে সরকারি অনুদানের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষকরা।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের করা অনলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ‘অবশেষে স্কুল খুলছে : আমরা কতখানি প্রস্তুত?’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। মোট এক হাজার ৯৬০ জনের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে অভিভাবক ছিলেন ৫৭৬ জন এবং শিক্ষক ছিলেন ৩৭০ জন। বাকি ব্যক্তিরা অন্যান্য শ্রেণি-পেশার।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে প্রায় এক বছর বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করছে সরকার। শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে মতামত দিলেও তারা মনে করেন, স্কুল খুলে দিলে সংক্রমণের হার বেড়ে যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে প্রণীত গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আর্থিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমানভাবে প্রস্তুত নয়। স্বাস্থ্য-নির্দেশিকা অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করার অতিরিক্ত ব্যয়ভার পূরণ করতে সরকারি অনুদানের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

এ অনলাইন জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সংলাপ ও যোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক অভ্র ভট্টাচার্য। তিনি জানান, এক হাজার ৯৬০ জনের অংশগ্রহণে এই অনলাইন জরিপে ৫৪.৭ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে নিরাপদবোধ করছেন না। অন্যদিকে, ৬৮ শতাংশ শিক্ষক স্কুলে যেতে নিরাপদবোধ করছেন বলে মতামত দেন। ৬৭ শতাংশ অভিভাবক সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি প্রদানে আগ্রহী নন এবং ৬৮.৮ শতাংশ শিক্ষক অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহনে সরকারি অনুদানের কথা উল্লেখ করেন। ৫০.৭ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, তাদের সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যনির্দেশিকা মেনে চলতে সক্ষম না, যদিও ৬৮ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন তাদের স্কুলের স্বাস্থ্যনির্দেশিকা নিশ্চিত করার সামর্থ্য রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্যদের মধ্যে ৬০.৫ শতাংশ মনে করেন স্কুল খোলা উচিত, যদিও ৫২.২ শতাংশ এতে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন।

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, স্কুল খোলার পরিস্থিতি নিয়ে একটি মিশ্র চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, স্কুল খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার প্রস্তুতি সমান নয়।

আলোচনার সারসংক্ষেপ করে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রযুক্তির অভিগম্যতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের প্রস্তুতিতে পার্থক্যের পাশাপাশি শহর ও গ্রামের স্কুলের মাঝেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার ওপরেও জোর দেন তিনি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকারি পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেন তিনি।

সংলাপের প্রারম্ভিক বক্তা, এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মঞ্জুর আহমেদ প্রস্তাব করেন, সব বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে, শুধু কিছু মৌলিক বিষয়ে জোর দিয়ে স্কুল খোলা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কম পড়বে।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু স্কুলে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শিক্ষা প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এক্ষেত্রে সরকার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক মনে করেন, স্বাস্থ্যনির্দেশিকাগুলো বিশদ এবং স্কুলের ভেতর সব নিয়মাবলি মেনে চলা কঠিন হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ একই মত প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুল খোলা যেতে পারে।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরের মোট ১৬টি জেলা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবক এই সংলাপে অংশ নেন। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা সংলাপে অংশ নেন এবং তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

/শাআ/

Islami Bank Ad
অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন

অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন

বিএসএমএমইউ’র সিন্ডিকেট সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

বিএসএমএমইউ’র সিন্ডিকেট সভায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নির্মূল কমিটির ওয়েবিনার

বাংলাদেশ ব্যাংকের করোনকালীন কার্যক্রম পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন

বাংলাদেশ ব্যাংকের করোনকালীন কার্যক্রম পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন

তামাকজাত পণ্যে কর আদায় ২৩ হাজার কোটি টাকা, চিকিৎসা ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা

তামাকজাত পণ্যে কর আদায় ২৩ হাজার কোটি টাকা, চিকিৎসা ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা

ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি

ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি

এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে রপ্তানি কমতে পারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে রপ্তানি কমতে পারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

২০২০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা  বেড়েছে ১ শতাংশ

২০২০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়েছে ১ শতাংশ