সব
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

রিজার্ভ ছাড়াল ৪৪ বিলিয়ন ডলার

ব্যবসা করেও কর দেয়নি ৫৭ হাজার ৫৩৫ কোম্পানি

কর না দেওয়া কোম্পানি খুঁজে বের করতে ২০২০ সালের আগস্টে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এনবিআর। সংস্থাটির সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্সের জয়েন্ট ডিরেক্টর শাব্বির আহমদের নেতৃত্বে ৭ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটি মাঠ পর্যায়ের ৩০টি জোনের অধীনে ১৪৬টি কোম্পানি সার্কেলের মাধ্যমে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কোম্পানিগুলোকে খুঁজে পায়।

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৩৫

নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে অথচ কর শনাক্তকারী নাম্বারও গ্রহণ করেনি ৫৭ হাজার ৫৩৫ কোম্পানি। যার ফলে এসব কোম্পানি থেকে এ পর্যন্ত কোন রকম কর আদায় করতে পারেনি সরকার। গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব প্রতিষ্ঠানকে এখন নতুন করে ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ই-টিএন) প্রদানসহ কর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, কর না দেওয়া কোম্পানি খুঁজে বের করতে ২০২০ সালের আগস্টে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে এনবিআর। সংস্থাটির সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্সের জয়েন্ট ডিরেক্টর শাব্বির আহমদের নেতৃত্বে ৭ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটি মাঠ পর্যায়ের ৩০টি জোনের অধীনে ১৪৬টি কোম্পানি সার্কেলের মাধ্যমে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কোম্পানিগুলোকে খুঁজে পায়।

এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটি জানিয়েছে, ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত টিআইএনধারী কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার। এরমধ্যে মাত্র ২৮ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালে আয়কর রিটার্ন দিয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে অভিযানের পর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিআইএনধারী কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। অন্যদিকে আয়কর রিটার্ন বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

জানা যায়, বর্তমানে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৭৬ হাজার। এরমধ্যে প্রতি বছর ৩৫-৩৬ হাজার প্রতিষ্ঠান আয়কর রিটার্ন দাখিল করছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স পায় এনবিআর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি এরই মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে জানতে পেরেছে, ১ লাখ ৭৭ হাজার নিবন্ধিত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে ইটিআইএন আছে মাত্র ৭৮ হাজারের। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছে মাত্র ২৮ হাজার কোম্পানি। আবার এদের প্রায় ১২ হাজারই জমা দিয়েছে ভুয়া অডিট রিপোর্ট। আর এর কারণ অনুসন্ধানে বেশকিছু কোম্পানিকে তদন্তের আওতায় আনছেন গোয়েন্দারা।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, কর না দেওয়া কোম্পানি খুঁজে বের করার পাশাপাশি জাল অডিট রিপোর্ট খুঁজে বের করা, রিটার্ন দাখিল এবং অথেনটিক অডিট রিপোর্ট দাখিল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করেছে টাস্কফোর্স কমিটি। এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটির একজন সদস্য বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসের মধ্যে এটি শতভাগে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছর আয়কর খাতে দেওয়া সরকারের রাজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসির পরিচালক মো শাব্বির আহমেদ ‘সারাক্ষণ’কে বলেন, ‘আমরা অনেক কোম্পানি শনাক্ত করেছি। যারা নানা উপায়ে কর ফাঁকি দিয়ে আসছিলো। এখন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে একই সাথে কোম্পানি নিবন্ধনও বাড়বে। ফলে স্বচ্ছতা আসবে।’

চলতি অর্থবছর ৩.৩০ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এনবিআরের। এরমধ্যে আয়কর খাত থেকে আহরণ করতে হবে ১.০৫ লাখ কোটি টাকা। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথমার্ধে এনবিআরের আহরণ ৪২.১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাকি ছয় মাসে আহরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ ‘সারাক্ষণ’কে বলেন, ‘ট্যাক্স ফাইলসহ সবকিছু ঠিক থাকলে এটা সবার জন্য ভালো। করোনাকালে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে অনেকের ট্যাক্স ফাইল ছিলো না। কিন্তু তারা ব্যবসা করেছে। অপরদিকে ব্যাংকগুলো সবসময় চায় ট্যাক্স ফাইল যেন ঠিক থাকে। আর ফাইল ঠিক থাকলে ব্যবসা এবং সবদিক থেকে ভালো হয়।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ‘সারাক্ষণ’কে বলেন, ‘একই করদাতার ওপর চাপ না দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ ও নতুন করদাতা বৃদ্ধির কথা আমরা বারবারই বলে আসছি। সক্ষমতা ও উদ্যোগের অভাবে এনবিআর তা পেরে উঠছিল না।’ নতুন এ উদ্যোগের ফলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ কমাবে বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাংলাদেশে নিবন্ধিত যেসব কোম্পানি টিআইএন গ্রহণ বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছে না সে সকল কোম্পানি চিহ্নিত করে তালিকা করা ও সব কোম্পানিকে আয়করের আওতায় আনতে টাস্কফোর্স গঠন করে। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের পরিচালক মো. শাব্বির আহমদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টাস্কফোর্স টিম গঠন করা হয়।

টাস্কফোর্সের কর্মপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত যেসব কোম্পানি টিআইএন গ্রহণ বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছে না সে সব কোম্পানি চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়ন করে সব কোম্পানিকে আয়করের আওতায় আনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জাল অডিট রিপোর্ট দাখিল রোধকল্পে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। কোম্পানি করদাতাদের কর নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল এবং অথেনটিক অডিট রিপোর্ট দাখিল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করা এবং সমাধানের বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ করা হয়েছে।

/এসবি/

রিজার্ভ ছাড়াল ৪৪ বিলিয়ন ডলার

রিজার্ভ ছাড়াল ৪৪ বিলিয়ন ডলার

পাঁচ কর্মদিবস পর সূচকের উত্থান পুঁজিবাজারে

পাঁচ কর্মদিবস পর সূচকের উত্থান পুঁজিবাজারে

শর্ত সাপেক্ষে ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানির কথা জানালেন হাইকমিশনার

শর্ত সাপেক্ষে ভারতে ভোজ্যতেল রপ্তানির কথা জানালেন হাইকমিশনার

ঋণ দেয়ার শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঋণ দেয়ার শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

'অপারেশন সুন্দরবন' এর জন্য ঢাকায় নুসরাত ফারিয়া

'অপারেশন সুন্দরবন' এর জন্য ঢাকায় নুসরাত ফারিয়া

চাঁদাবাজি মামলায় কলেজ অধ্যক্ষের কারাদণ্ড

চাঁদাবাজি মামলায় কলেজ অধ্যক্ষের কারাদণ্ড

সরিষাবাড়ীতে চোলাই মদসহ তরুণ গ্রেপ্তার

সরিষাবাড়ীতে চোলাই মদসহ তরুণ গ্রেপ্তার

কানাডায় ইএসএল টিচারদের সুযোগ ও সম্ভাবনা

কানাডায় ইএসএল টিচারদের সুযোগ ও সম্ভাবনা

চবিতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন

চবিতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

জয়কে নিয়ে সিঙ্গাইরে হ্যাটট্রিক জয় চায় বিএনপি

জয়কে নিয়ে সিঙ্গাইরে হ্যাটট্রিক জয় চায় বিএনপি

আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন চান চট্টগ্রামের আইনজীবীরা

আদালতে বাংলা ভাষার প্রচলন চান চট্টগ্রামের আইনজীবীরা