সব
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

জলদস্যু নেতা থেকে পর্তুগিজ ভাইসরয়

পর্তুগিজরা বরাবরই জলদস্যুর জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপমহাদেশে তাদের আয়ের বড় একটি অংশই যোগ হতো বাণিজ্য জাহাজ লুট করে।

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:০০

 

মধ্যযুগে খাবারে মসলার ব্যবহার ইউরোপিয়ানদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত ছিল। তাদের অনেক সমুদ্র অভিযানের পেছনে মূল কারণই ছিল মসলা। তারা সাধারণত স্থল পথেই মসলা সংগ্রহ করতেন। কিন্তু মেডিটেরিয়ান অঞ্চল বিশেষ করে তুরস্কের শাসকেরা তাদের যাত্রাপথে ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ইউরোপিয়ানরা বিকল্প পথে ভারতীয় উপমহাদেশ ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই পথ হিসেবে তারা সমুদ্রকে বেছে নেন।

পর্তুগিজরা বরাবরই জলদস্যুর জাতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপমহাদেশে তাদের আয়ের বড় একটি অংশই যোগ হতো বাণিজ্য জাহাজ লুট করে। ভাস্কো দা গামা সেই সংস্কৃতির প্রবর্তন করে গিয়েছিলেন এবং নৌপথে ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে ভারতে আসার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।

পর্তুগালের লিসবনে ১৪৬০ সালে ভাস্কো দা গামা জন্ম গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ডানপিটে ও অভিযানপ্রিয় ছিলেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ভাস্কো দা গামা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে কোনো কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন। তীব্র অভাব বোধ তার মধ্যে এক ধরনের মানসিক নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করে। যা তার সারা জীবনেই প্রভাব ফেলে। একজন নির্মম ও উচ্চাকাক্সক্ষী ব্যক্তি হিসেবে ভাস্কো দা গামা তার সময়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

১৪৯২ সালে রাজা দ্বিতীয় জন তার এই যোগ্যতার কথা জানতে পেরে লিসবনের দক্ষিণে ফরাসি জাহাজের বিরুদ্ধে ভাস্কো দা গামাকে পাঠান। তিনি সেখানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নির্মমতার পরিচয় দিয়ে ফরাসিদের পরাজিত করেন। এতে করে রাজপরিবার তার প্রতি আস্থাশীল হয়ে ওঠেন। ১৪৯৫ সালে ক্ষমতায় আসেন রাজা ম্যানুয়েল। তিনি ভাস্কো দা গামাকে আরো বড় দায়িত্ব দেন। তিনি তাকে নৌপথে ভারতে পৌঁছানোর দায়িত্ব দেন এবং তা অন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলোর চেয়ে দ্রুত করার নির্দেশ দেন। ১৪৯৭ সালে ভাস্কো দা গামা তার বহর নিয়ে রওনা হন। তারা আফ্রিকার  কেপ অফ গুড হোপ ঘুরে এগুতে থাকেন।

তার এই অভিযানে বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনা ঘটান। ভাস্কো দা গামা সমুদ্রের গতিপথ সম্পর্কে অনেক সচেতন ছিলেন। তিনি অনুমান করে ভারতের দিকে এগুতে থাকলেও তার পথ সঠিক ছিল। যে কাজে ব্যর্থ হয়েছিলেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস। ১৪৯৮ সালে দক্ষিণ ভারতের কালিকাটে এসে পৌঁছান ভাস্কো দা গামা। বলা হয়ে থাকে সমুদ্র পথে তিনি হলেন প্রথম ইউরোপিয়ান যিনি ভারতীয় উপমহাদেশে আসেন।

স্থানীয় রাজা জামোরিন সে সময় অন্য শহরে ছিলেন। তিনি খবর পেয়ে দ্রুত চলে আসেন এবং ভারতীয় রীতি মেনে অতিথি বরণ করতে ভাস্কো দা গামাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেন। কিন্তু রাজা জামোরিন এবং সভাষদগণ বিস্মিত হয়ে যান যখন দেখেন পর্তুগিজরা রাজার জন্য কোনো উপহারই আনেন নি। এছাড়া সেখানে ব্যবসা করতে আসা আরব বণিক ও অন্যান্য বিদেশিদের মতো ব্যবসায়িক মনোভাবও তাদের নেই। প্রথম দফায় রাজার পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেলেও ফেরার পথে কয়েকজন ভারতীয়কে অপহরণ করেন ভাস্কো দা গামা। বেশ কিছু জায়গায় তিনি লুটপাট করেন। ১৪৯৯ সালে যখন তিনি পর্তুগালে ফেরেন তখন তার অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো হয়ে যায়। তিনি ২৪,০০০ মাইল পরিভ্রমণ করেন। যদিও তিনি এই অভিযানে স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার ভাই পাওলো এবং ১১৬ জন সহযাত্রীকে হারান। পর্তুগালে তিনি জাতীয় বীরের সম্মান পান।

ভাস্কো দা গামা দ্বিতীয়বার ভারতে আসেন সশস্ত্র বহর নিয়ে। এই দফায় তিনি পথে ও ভারতে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। পথে মিশরীয় ও গুজরাটি হাজিদের নিয়ে মক্কা থেকে ফিরে আসা একটি জাহাজে তিনি লুটপাট করেন এবং প্রায় ৪০০ হজযাত্রীসহ জাহাজে আগুন লাগিয়ে তাদের সবাইকে হত্যা করেন। কালিকটে আসার পর ভাস্কো দা গামার প্রতি স্থানীয় ধর্মপ্রচারক থালাপ্পানা নাম্বুথিরি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তবে ভাস্কো দা গামা এক পর্যায়ে থালাপ্পানাকে বিশ্বাসঘাতক উপাধি দিয়ে তার দুই কান কেটে দেন। কুকুরের দুটো কান কেটে থালাপ্পানার কাটা কানে জোড়া দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ভাস্কো দা গামার নির্মমতার বহু কাহিনী হারিয়ে যায় ইউরোপিয়ানদের অতি প্রচারের কারণে।

নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা চালালেও ভাস্কো দা গামা হয়ে ওঠেন পর্তুগিজদের কাছে আদর্শ ও বীরে। তাকে এক পর্যায়ে ভারতে ভাইসরয় পদে নিয়োগ দেয়া হয় পর্তুগিজদের প্রধান করে। তিনি ভারতে আসেন কিন্তু ম্যালেরিয়াতে ভুগে ১৫২৪ সালে মারা যান। প্রথমে তার কবর কোচিনে দেয়া হলেও পরে তার মরদেহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পর্তুগালে।

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

৪২ হাজার বছর আগে নিয়েন্ডারথাল প্রজাতির বিলুপ্তি!

৪২ হাজার বছর আগে নিয়েন্ডারথাল প্রজাতির বিলুপ্তি!

প্রত্নতত্ত্বের কাজ ছিল যার সাধনা

প্রত্নতত্ত্বের কাজ ছিল যার সাধনা

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

জামালপুরে কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

জামালপুরে কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চলমান পরীক্ষা: নির্দেশনার অপেক্ষায় চবি

চলমান পরীক্ষা: নির্দেশনার অপেক্ষায় চবি

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের ২৫০ নেতাকর্মী আসামি

পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের ২৫০ নেতাকর্মী আসামি

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে চবি বঙ্গবন্ধু চেয়ারে নিয়োগ দেওয়ায় খুশি শিক্ষক সমাজ

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনকে চবি বঙ্গবন্ধু চেয়ারে নিয়োগ দেওয়ায় খুশি শিক্ষক সমাজ

উইঘুর, তোমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল

উইঘুর, তোমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল

সড়কে বেহাল সেতু

সড়কে বেহাল সেতু

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভে পুলিশের বাধা

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভে পুলিশের বাধা