সব
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

হাজতির হদিস না পেয়ে জিডি

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছে : বিশেষজ্ঞদের অভিমত

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা চূড়ান্ত করতে আজ থেকে বৈঠক

এলডিসি দেশ হিসেবে আরও ১০ বছর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রফতানিকারকরা ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। এলডিসি উত্তরণের পরও পরবর্তী ৮-১০ বছর বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধাগুলো যাতে বহাল থাকে সেটির জন্য কাজ করার জন্য বাণিজ্য সচিব সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে অনুরোধ করেছেন।

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:৪৫

স্বল্পোন্নত বা এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার কাতারে শামিল হচ্ছে বাংলাদেশ। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে সংস্থাটির কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) পাঁচ দিনব্যাপী ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সব শর্ত পূরণ হওয়ায় এবারের বৈঠক শেষে সিডিপি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার স্বীকৃতির জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করবে। এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক কিছু চ্যালেঞ্জ এলেও দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাবে দেশ।

এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বাংলাদেশের। শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বৃহৎ অংশীদারিত্ব বাণিজ্য চুক্তির (সিপা) মতো বড় বড় চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভুটানের পর এবার নেপালের সঙ্গে পিটিএ করা হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে করা হবে সিপা চুক্তি। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে রফতানিতে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জুয়েনা আজিজ বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছেন।

এ লক্ষ্যে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সঙ্গে দরকষাকষি করা হচ্ছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরও যাতে অন্তত ১২ বছর স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রফতানি-আমদানি বাণিজ্যে সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখা হয় সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর ইউএসটিআরে আবেদন করা হয়েছে। ডব্লিউটিওতে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যেও (ইউকে) বাংলাদেশের হাই কমিশনার আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। তার এই ঘোষণার পর রফতানিকারকরা আশাবাদী হয়ে উঠছেন। এছাড়া সরকারী সংস্থাগুলোও শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা আদায়ে কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এক অনুষ্ঠান শেষে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সম্মানের হবে। এই উত্তরণ হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার সফল বাস্তবায়ন। তাই অর্জনের এই গৌরব ও গরিমা পরিমাপযোগ্য নয়।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিতে চূড়ান্ত সুপারিশ করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পৃথিবীতে যখনই অর্থনৈতিক সঙ্কট এসেছে সব সঙ্কটের সময়ই বাংলাদেশ তা দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন বলেন, এলডিসি উত্তরণে আমরা তিনটা ক্রাইটেরিয়াই পূরণ করেছি। এবার দ্বিতীয় এ্যাসেসমেন্ট। সুতরাং এবার আমরা নিচু স্তর থেকে উঁচু স্তরে উত্তরণ ঘটাতে পারব। আমি আশাবাদী যে আমরা তা অর্জন করতে পারব।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসেব বিশ্বে তিন ধরনের দেশ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত বা এলডিসি। জাতিসংঘ হিসাবেটি করে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বা সঙ্কট সূচক অনুযায়ী। বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশসহ ৪৭টি দেশ এলডিসি হিসেবে রয়েছে। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ।

এই মূল্যায়ন করে সিডিপি। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে অন্তত ছয় বছর লাগে। বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০২১ সালে চূড়ান্ত সুপারিশ পেলে নিয়মানুযায়ী ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মিলবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার পর অর্থনীতিতে বেশকিছু ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে দাতাদের কঠিন শর্তের মুখে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

তবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভাবমূর্তি উন্নয়নের ফলে বেশি পরিমাণে বৈদেশিক ঋণ পাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থ বিশেষজ্ঞরা। বহির্বিশ্বে জাতি হিসেবে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন করে অনেক দেশের সঙ্গে নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্যেও দ্বারোন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে করোনায় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এলডিসি হিসেবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

করোনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা শুরু হলে এক্ষেত্রে এখনও ভাল অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। সরকারের নানা উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অর্থনৈতিক মন্দায় খুব একটা সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন, রেমিটেন্সে বৃদ্ধি, রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের উৎপাদন সচল রাখা, কর্মসংস্থান এবং বড় বড় প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় অর্থনীতির স্পর্শকাতর সূচকগুলো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আর এ কারণেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

জানা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে সংশ্লিষ্ট সচিবদের চিঠি দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে ইআরডি। ওই চিঠিতে বলা হয়-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।

একই সুবাদে বিগত ২০১৮ সালে জাতিসংঘের সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনামূলক সভায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সকল মানদণ্ড পূরণের স্বীকৃতি পায়। সিডিপির সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিভিন্ন সূচকে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

আশা করা যাচ্ছে উত্তরণের সকল সূচকে উত্তীর্ণ হয়ে সিডিপি ২২-২৬ ফেব্রুয়ারি-২০২১ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করবে। এটি হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন।

বাংলাদেশ-২০২১ এ সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ার পর তিন বছর ট্রানজিশন পিরিয়ড অতিক্রমান্তে ২০২৪ সালে চূড়ান্তভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে। উত্তরণ প্রক্রিয়া মসৃণ ও টেকসই করতে এ বিষয়ে সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তদানুযায়ী বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিবীক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ককে আহ্বায়ক করে গঠিত একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।

জানা গেছে, এলডিসি দেশ হিসেবে আরও ১০ বছর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রফতানিকারকরা ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। এলডিসি উত্তরণের পরও পরবর্তী ৮-১০ বছর বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধাগুলো যাতে বহাল থাকে সেটির জন্য কাজ করার জন্য বাণিজ্য সচিব সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে অনুরোধ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন ‘সারাক্ষণ’কে বলেন, নির্দিষ্ট সময় ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তবে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা আরও ১০ বছর বাড়ানোর কথা বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আশা করছি, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি ২০৩৪ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন, রেমিটেন্সে বৃদ্ধি, রফতানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের উৎপাদন সচল থাকা, কর্মসংস্থান এবং বড় বড় প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় অর্থনীতির স্পর্শকাতর সূচকগুলো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আর এ কারণেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

/এসবি/

Islami Bank Ad
হাজতির হদিস না পেয়ে জিডি

হাজতির হদিস না পেয়ে জিডি

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছে : বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা নিরাপদে আছে : বিশেষজ্ঞদের অভিমত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশন প্রধানরা, সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশন প্রধানরা, সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা

৭ ও ১৭ মার্চ উপলক্ষে ডিএসসিসির কর্মসূচি

৭ ও ১৭ মার্চ উপলক্ষে ডিএসসিসির কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ট্রেনের ৮ ইঞ্জিন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ট্রেনের ৮ ইঞ্জিন

ট্যাকা দেও, এক কেজি চাল কিনবো : কাঙ্গালিনী সুফিয়া

ট্যাকা দেও, এক কেজি চাল কিনবো : কাঙ্গালিনী সুফিয়া

চকবাজারে জুয়ার আসর থেকে আটক ২৫

চকবাজারে জুয়ার আসর থেকে আটক ২৫

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে কবর দিতে হবে: জাফরুল্লাহ

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টকে কবর দিতে হবে: জাফরুল্লাহ