সব
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ : দুনিয়া কাঁপানো এক দিন

২১ ফেব্রুয়ারি যে প্রেরণা মানুষের মনে তৈরি করে দিয়ে গেছে, তা পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মাতৃভাষার সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০১

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পুরো সময়কালে সবচেয়ে আলোচিত দিন ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে পৃথিবীতে প্রাণ দেয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ, অর্থাৎ সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের আকার খুবই ক্ষুদ্র। কিন্তু এই ছোট্ট ভূখণ্ডের মানুষ এমন অনন্য সাধারণ কাজ করেছেন, যা ইতিহাসের পরিক্রমায় সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে মাতৃভাষার সম্মান জানাতে ২১ ফেব্রুয়ারিকেই সবচেয়ে যোগ্য দিন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

১৯৫২ সালের শুরু থেকেই ভাষা আন্দোলন জোরদার হতে থাকে। নানা কর্মসূচির মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, সভা ও বিক্ষোভের ডাক দেয় ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকায় এই দিনটি নিয়ে শাসকদের ভাবিয়ে তোলে। যার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। ভাষা আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য রাখায় ১৩ ফেব্রুয়ারি অবজারভার পত্রিকা নিষিদ্ধ করা হয় এবং এর সম্পাদক আবদুস সালাম ও প্রকাশক হামিদুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি করে পুস্তিকা প্রকাশ করে। সর্বদলীয় পুস্তিকাটি লেখেন বদরুদ্দীন উমর এবং ছাত্রদের পক্ষে পুস্তিকাটি লেখেন আনিসুজ্জামান। এদিন পরিস্থিতি এত বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে নুরুল আমীন সরকারের পক্ষে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এইচ কোরেশী সমগ্র ঢাকায় এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন।

একই দিন সন্ধ্যায় সর্বদলীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ বৈঠক হয়। প্রবীণ নেতা আবুল হাশিম সভাপতিত্ব করেন বৈঠকে। ছাত্রদের অংশের নেতৃত্ব দেন আবদুল মতিন। ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে কি না, এই প্রশ্নে দুই অংশ বিভক্ত হয়ে পড়ে। অধিকাংশ সিনিয়র নেতা ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে মত দিলে ছাত্ররা এর প্রতিবাদ করেন। আবদুল মতিন মতামত দেন, পরদিন আমতলার সমাবেশেই ঠিক করা হবে ১৪৪ ধারা ভাঙা হবে কি না। নেতারা তার বক্তব্য মেনে নেন। ২০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঢাকা হল বা বর্তমান শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে গাজীউল হকের নেতৃত্বে ১১ জন ছাত্রনেতা ১৪৪ ধারা ভাঙার গোপন সিদ্ধান্ত নেন।

পরদিন বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজসংলগ্ন আমতলায় রাজনৈতিক দলের কর্মী ও ছাত্রদের সমাবেশ ঘটে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সেখানে উপস্থিত হন। পুরো এলাকায় কঠোর অবস্থান নেয় পুলিশ। সংঘাতের আশঙ্কায় রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে মত দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। আবদুল মতিন ও গাজীউল হকের নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত জানান ছাত্রনেতারা। পরে সভায় সিদ্ধান্ত হয় ১৪৪ ধারা ভাঙতে ১০ জন করে একেকটি দল বের হয়ে যাবে একের পর এক। এদের মধ্যে চতুর্থ দলটি ছিল ছাত্রীদের। দলগুলো যখন বের হচ্ছিল, পুলিশ তাদের  বেশিভাগকেই গ্রেপ্তার করে।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। শুরু হয় পুলিশের নির্দয় লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ। সারা দিন ধরেই চলে সংঘর্ষ। এদিন বিধানসভার বৈঠক ছিল বর্তমান জগন্নাথ হলে। ছাত্ররা দুপুরের পর সেখানে ঘেরাও করার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসের প্রতিবাদে ইটপাটকেল ছুড়ছিলেন ছাত্ররা। এরই মধ্যে ঘটে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় ঘটনার। মিছিলরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। রফিক উদ্দিন লুটিয়ে পড়েন। প্রথম ভাষাশহীদ হন তিনি। একে একে মারা যান জব্বার, বরকত। পুলিশ আহত ও নিহতদের সরিয়ে নিচ্ছিল তাদের গাড়িতে করে। অনেকেই মনে করেন, ভাষা আন্দোলনে যে শহীদদের নাম আমরা জানি, তাদের চেয়ে আরো বেশিসংখ্যক মানুষ সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন। যাদের মৃতদেহ পুলিশ লুকিয়ে ফেলে। গোপনে শহীদ রফিকের গুলিবিদ্ধ মাথার ছবি তুলে আলোড়ন তোলেন ফটোগ্রাফার আমানুল হক।

২১ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার বৈঠকে পুলিশি গুলি, হত্যা, নির্যাতনের প্রতিবাদে ৩৫ জন সদস্য সেখান থেকে একযোগে বেরিয়ে আসেন। ছাত্রনেতাদের বড় অংশই গ্রেপ্তার হয়ে গেলে নতুন নেতৃত্ব ঠিক করে আন্দোলনের কর্মকৌশল ঠিক করা হয়। এতে সিনিয়র নেতারাও যোগ দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ও পরের কয়েক দিন আন্দোলন শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাষাশহীদরা রক্তঋণে আবদ্ধ করে গেছেন পরবর্তী প্রজন্মকে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে আরো চার বছর আন্দোলন করতে হয়েছিল। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি যে প্রেরণা মানুষের মনে তৈরি করে দিয়ে গেছে, তা পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মাতৃভাষার সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

অসহযোগের প্রথম দিন: বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জনগণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো রক্ষাকবচ কেন বাতিল করবে সরকার?

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো রক্ষাকবচ কেন বাতিল করবে সরকার?

চলমান পরীক্ষা: নির্দেশনার অপেক্ষায় চবি

চলমান পরীক্ষা: নির্দেশনার অপেক্ষায় চবি

ঝাড়খণ্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করছি : জয়া

ঝাড়খণ্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করছি : জয়া

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা: স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ানো হয়

পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের ২৫০ নেতাকর্মী আসামি

পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রদলের ২৫০ নেতাকর্মী আসামি

সড়কে বেহাল সেতু

সড়কে বেহাল সেতু

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনা টিকা দেবে না সরকার

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে করোনা টিকা দেবে না সরকার

থেমে নেই আল-কায়েদা ও আইএস

থেমে নেই আল-কায়েদা ও আইএস