সব
শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭
AD

c/o দ্রাঘিমাক্ষর

সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ড: পাঁচ

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪০

‘আমি চোখ মেললুম আকাশে,

জ্বলে উঠল আলো

পুবে পশ্চিমে।’

খোলা সমুদ্রের ওপরে আকাশের দিকে চেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাটাই মনে এল প্রথমে।

সামনে আছে সমুদ্রের সফেন জলরাশি, ঢেউয়ের গর্জন, কী গভীর নিশুতি রাত। রাত্রিবেলা অথচ কী সুন্দরভাবে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে নীল সমুদ্র, নীলাভ কালচে আকাশ।

শুয়ে আছি আমি কোথাও। শুয়ে শুয়ে এমন আশ্চর্য রকম সৌন্দর্য দেখা যায় কোথা থেকে, স্বর্গে কি আমি পৌঁছেই গেছি? অন্ধকারে উঠে বসতে বসতে মনে হলো, পড়ে না যাই ধুপ করে সমুদ্রে, ডুবেই যাব তাহলে, মন কেবলি জানান দিচ্ছে আমাকে আমি ঘুমাচ্ছি সমুদ্রের ওপরেই। কিন্তু মনই মনের ভুলকে শুধরে ততক্ষণে আবার জানান দিয়ে দিয়েছে, ঘুম ভাঙছে আমার, আছি হোটেলে আমি।

বাতি নেভানো। চলে এসেছি হোটেলে কাল রাতেই। আজ সারা দিন ঘুরে শেষে রাতের ১০টার দিকে রুমে এসে ধপাস করে বিছানায় পড়ে ঘুমিয়েও পড়েছি। রাতের প্রায় ১২টা বেজে গেছে এখন, ২৩ অক্টোবরও দেখছি শেষ হয়ে গেছে বা যাচ্ছে।

হোটেল বেলকনি থেকে সৈকত। কাঠের ব্রিজ গিয়ে ছুঁয়েছে সমুদ্রের নোনাজল

গতকালকে রাতের ৯টা কি সাড়ে ৯টার দিকে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার আনন্দময় ড্রাইভিং শেষে এসে পৌঁছেছি আমরা আমাদের গন্তব্যে, সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডের মেরিয়েটস হোটেলে।

শহরে ঢুকেই আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করেছিল পাদ্রে বুলেভার্ড নামের রাস্তায়, এই রাস্তাতেই আমাদের হোটেল। আমাদের প্রথম এক ধাক্কায় মনে হয়েছিল ট্যুরিস্ট সিটির হইহই থেকে একটি অনুরণন ছুট দিয়ে এসে বুঝি আমাদের ছুঁয়ে গেল। অথচ নীরবই তো চারদিক। করোনাকাল কি একে বেশি করে থমকে দিয়েছে! কোনো ভাঁজ থেকে কোনো এক কোনাকুনি থেকে লুকিয়ে থাকা ঘাপটি মেরে থাকা কোনো একগুচ্ছ ফুর্তির আনন্দের উল্কি বাতাসই বুঝি শব্দ তুলে আমাদের স্বাগত জানাল। চারদিকে আলো জ্বলছে, ঝিলিমিলি ভাবও আছে কিছুটা, কিন্তু জনশূন্য, রাত বলেই হয়তোবা এমন মনে হচ্ছে।

তবে হোটেলে ঢুকেই এক পলকে সব বদলে গেল, সবকিছু সব দিক আলোকিত। বেশ জমজমাট। এটা যে রাত, সেটা বোঝাই যাচ্ছে না। মাস্ক মাস্ট। জায়গায় জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বিশাল ট্রলি এনে সব তুলে আমাকে লাউঞ্জে বসিয়ে বাপ-মেয়ে গেল গাড়ি পার্ক করতে। ইতোমধ্যেই দেখে এসেছি রাত হয়ে গেছে বলে কাছের সব পার্কিং স্পট চলে গেছে, কেউ না কেউ গাড়ি রেখে দিয়েছে। এবার বাপ-মেয়েকে বেশ কয়েকটা চক্কর দিতে হবে ভালো একটা পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজে পেতে।

শুমের রাজত্ব। ওর কুইন ডবল বেড সুইট

 আমি বসে বসে দেখলাম যারা আসছে যাচ্ছে তাদের। চার কি পাঁচটা বাচ্চা নিয়ে একটি মেক্সিকান পরিবার বেশ গাইতে গাইতে ওপরে উঠে যাচ্ছে, সবার মুখে বিভিন্ন সাইজের মাস্ক, কোলেরটাকেও ঢং করে মাস্ক পরিয়ে ছবি তুলছে। বেশ মজা লাগল দেখে কোলেরটির সঙ্গে যে পুতুল আর টেডি বিয়ার রয়েছে, তাদেরও মাস্ক পরিয়ে আনা হয়েছে। সতর্কতা নিয়েও সতর্কভাবে নির্বাক আনন্দে আছে তারা।

সাদা এক যুগল যেভাবে রোমান্টিক ভাবভঙ্গি ফুটিয়ে হোটেলের পেছনের লাগোয়া বিচে যাচ্ছে, সেই আহ্লাদ ফুটিয়ে তুলতে স্বয়ং পাবলো পিকাসোকে লাগবে। আমার পক্ষে বর্ণনা দিয়ে ছবি ফুটিয়ে তুলে প্রকাশ করা সম্ভব না। ওদের দিকে অবশ্য আমার তাকাতেও ইচ্ছা করছে না যে তাদের আঁকতে পারব বর্ণনায়। ওদেরও হাবভাব ডোন্ট কেয়ারের, এমন যেন মনে হচ্ছে হেভেনে যাচ্ছে, দুনিয়াকে আর পাত্তা দেয় না। যাও যাও তাড়াতাড়ি যাও। এমন সুতা পরে আছো সরো তাড়াতাড়ি, আমিই শরমে মরি মরি। মনে হচ্ছে, চাঁদের বুড়ির চরকা থেকে সুতা তুলে গায়ের এদিক ওদিকে একটু জড়িয়ে নিয়েছে দয়া করে। আমিই অন্যদিকে চোখ ঘুরিয়ে নিলাম। তখনই চোখ আটকালো গিয়ে তিনজন মা এবং তিনজন চার বা পাঁচ বছরের বাচ্চা নিয়ে ঢোকা একটা গ্রুপের দিকে। মাগুলো বাচ্চাগুলোকে এনে আমার পার্শ্ববর্তী আইলের সোফায় বসিয়ে দিল। আমার পাশে বসার পরেই আমি বুঝতে পারলাম ওরা চোখে দেখতে পায় না। এত ফিটফাট পরিপাটি সবাই যে আমি ভাবতেও পারিনি বাচ্চাগুলো দেখতে পায় না, হায় খোদা, এ কি হলো! মাগুলোও বেশ হাসিখুশি। অন্ধ বাচ্চার মা হলেই যে সদা সর্বদা কাঁদতে থাকতে হবে, তা অবশ্যই নয়। সম্ভবত নির্দিষ্ট কোনো একটি সাপোর্ট গ্রুপের সদস্য তারা। তাই একসঙ্গে মিতালি পেতে এসেছে তারা। নিজেরা নিজেদের দুঃখের কথা ভাগ করে সান্ত্বনা খুঁজে নেবে। ঠিক তখনই ঢোকা আটজনের একটি দল দেখে বেশ ভালো লাগল আমার। মহিলা দল। সব কয়জনারই বয়স ৪০-এর ওপরে। বান্ধবী বা সহকর্মী। রুম নিচ্ছে দুটি মাত্র। শুমকি আর ইমতিয়াজ এসে ঢুকেছে, হাসিমুখে জানাল ভালো জায়গায় গাড়ি পার্ক করতে পেরেছে।

সমুদ্র তীরে জেলি ফিশ ও মেন-ও-ওয়ার

বললাম, ৮ জনে দুটি রুম? হাউ কাম?

শুমশুম সঙ্গে সঙ্গে বলল, নট ইউর বিজনেস, মা।

আমি বললাম, আমরা তিনজনে দুটি স্যুইট নিয়েছি!

ইমতিয়াজ বলল, তোমার মা মনে হয় ওদের এনে আমাদের সঙ্গে ঘুম পাড়াবে।

কিন্তু রুমে ঢুকেই আমার মনে হলো এক রুমে চারজন খুবই আনন্দের সঙ্গে থাকতে পারবে। দুটি বিশাল বিশাল কুইন সাইজ খাট, লম্বা এক চিলতে ডাইনিং বা ল্যাপটপ ওয়ার্কশপের উঁচু ধরনের টেবিল বসার সঙ্গে হাই চেয়ার এবং চারজনের সোফা পাতা আছে। রয়েছে দুটি টিভি, দুটি মাইক্রোওয়েভ। বাহ্ বাহ্ একই রুমে দুটি টিভি, ২ জন দুটি ভিন্ন চ্যানেল দেখতে পারবে! অথবা রুমের ওই ধারে গেলে একটা, এই ধারে এলে আরেকটা। শুমার রুমের দুটি ধরে মোট চারটি, তিনজন মানুষের জন্য চারটি মাইক্রোওয়েভ, হেভি হাইফাই ব্যাপার দেখা যাচ্ছে। আমি খুশি। বেলকনিতে রয়েছে চেয়ার টেবিল বিছানো। আহ্‌ কী সুন্দর, নিজেই মুগ্ধ হলাম। মেরিয়ট হোটেলে আগেও ছিলাম, কিন্তু এবারেরটা খুবই ভালো লাগল। শুমার রুমটাও একই রকমের। পাশাপাশি লাগোয়া রুম দুটি। দুটি কুইন সাইজ খাট দিয়ে ও কী করবে ওই-ই জানে। একটা থেকে আরেকটাতে লাফ দিতে পারত যদি ছোট থাকত। টাকার কথাটা না ভেবে পারি নাকি! বলেই ফেললাম, ওর রুমটা ছোট নিলে কী হতো? শুমাই হেসে বলল, সবচেয়ে বড় রুমগুলোই এখন সেলে দিয়ে রেখেছে। সিঙ্গেল রুমের ভাড়া এখন বেশি চলছে। তুমি হাত-পা ছড়িয়ে থাকতে পারবে। বাহ্ মেয়ে আমাকে ভালোই চিনেছে। আমার সবই দারুণ লাগছে। খুশি মনে দেখতে থাকলাম সব ঘেঁটেঘুঁটে খুলে, ছবি তুলে। রুম রিজার্ভেশন থেকে হোটেল-সংশ্লিষ্ট সব খোঁজখবর শুমা নিয়েছে, বা ইমতিয়াজ প্রয়োজনীয় কাজ করেছে। তাই তত্ত্ব, তথ্য-উপাত্ত ওরাই ভালো জানে। আমি শুধু বলেছি এয়ার বিঅ্যান্ডবি (Airb&b) চাই না, বেড়াতে গিয়ে কারো বাসায় থাকব না ভাড়া নিয়ে। অনেকে মিলে গেলে তখন খাটে, নিজেরা তিনজন গেলে অবশ্যই না, করোনাকালে এয়ার বিঅ্যান্ডবিকে কতটাই বা নিরাপদ ভেবে ভরসা করব! আমার চাহিদা ছিল কেবল একটা ভালো হোটেল সমুদ্রের পাশে, শুয়ে শুয়ে যেন আমি পাই সমুদ্রের নোনা স্বাদ।

ইসাবেল লাইট হাউস

যা এখন পাচ্ছি,

কাল এসে পৌঁছানোর পর থেকেই পাচ্ছি।

এই তো চেয়েছিলাম বেলকনিতে দাঁড়ালে উড়ে আসবে সমুদ্রের ঢেউ বাতাসে ভর করে আমাকে ভেজাতে। বিছানা ছেড়ে উঠে গেলাম বেলকনিতে। ইমতিয়াজ নিশ্চয়ই ওখানে। ঠিক তাই, বসে বসে গান শুনছে। শুনছে না, আসলে গাইছে, আপন মনে গুনগুনাচ্ছে। এত সুন্দর গায়কি তার কণ্ঠে অথচ হেলায় রেখেছে ফেলে।

মন চাইছে না কোনো কথা কইতে।

এমন সময় শুধু পাশে বসেই থাকতে ভালো লাগে।

কী বিশাল ঢেউ আর তার উচ্ছ্বাস আর উল্লাস। কিছু মশাল জ্বালানো আছে নিচে। সম্ভবত ওগুলো ইলেকট্রিক্যাল মশাল। মশা-মাছি নেই তাই বসে থাকা যাচ্ছে। কত ছোট একটা প্রাণ ওই মশা তাও পারত আমাদের বসে থাকা ওষ্ঠাগত করে দিতে। অনুসম এক করোনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জগৎময়। এই মহাবিশ্বের কাছে কতই না ক্ষুদ্র আমরা, হে মানব কিসের এত গর্ব তোমাদের! তৃণসম আমিও ভূমিতলে বিলীন হব কোনো একদিন।

পড়েছিলাম কোথাও, পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টির মূল উপাদান এই পানি। এই মৌলিক উপাদান এই নীল গ্রহের সব জীবদেহের মধ্যেই রয়েছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর প্রাণবান সবকিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩০)। জীববিজ্ঞানের সূত্র অনুসারে, সাগরের অভ্যন্তরে অতলান্তে পানিতে যে প্রটোপ্লাজম বা জীবনের আদিম মূলীভূত উপাদান রয়েছে, তা থেকেই সব জীবের সৃষ্টি। তাই কি এক সমুদ্র পানিরাশি দেখতে এত আনন্দ লাগছে। শরীরের অণুবিন্দুতে স্পার্ক হচ্ছে, মিলছে আপন ভেবে নিজের গতিতে ফল্গুধারা হয়ে।

‘লুইস বেক ইয়ার্ড’ (রেস্টুরেন্ট)-এর খোলা ডেক

গত রাতে শহরে ঢোকার আগেই আমরা পেরিয়েছি পোর্ট ইসাবেল লাইট হাউসের পাশ কেটে আড়াই মাইল দীর্ঘ ব্রিজ কুইন ইসাবেলা কোসওয়ে। এটি এই দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূমি টেক্সাসের বা আমেরিকার একমাত্র ভূ-যোগাযোগ। ডালাসে বসেই এখানে আসার আগে থেকেই ইমতিয়াজ আমাদের বলে আসছে এই ব্রিজটার কথা। ক্যামেরুন কাউন্টির টেক্সাস-১০০ নামের হাইওয়েতে উঠতেই সে খুব খুশি, আসছে সামনে লেগুনা মাদ্রের পানিরাশি, যার ওপর দিয়ে সে ব্রিজটি দিয়ে পার হবে পাদ্রেতে পৌঁছাতে। বারবার বলেছে দিনের আলোতেও বেশ কয়বার এদিক থেকে ওদিক চালাবে। রাতেও বেশ আলোকিত কিন্তু সূর্যালোকে ব্রিজ ও এর পার্শ্ববর্তী সবকিছুর চেহারা ভিন্ন হওয়ারই কথা, দূর দূর বহুদূর পর্যন্ত একটানে একসঙ্গে দেখা যাবে। আজ সারা দিন করেছেও তাই, গিয়েছে এসেছে, বেশ খুশি সে, ছেলেরা মনে হয় এমনি হয়, সব বয়সেই অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসে। ২০০১-এর সেপ্টেম্বরে যে এই ব্রিজটার দুটি স্ল্যাব ভেঙে পড়ে বিশাল এক দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল, সেটাও মনে করিয়ে দিলাম ওকে থামাতে। সে এক ফুঁ দিয়ে সেটা উড়িয়ে দিল। উল্টে শুমাকে বলেছে সে, তুমি তো জানোই স্প্যানিশে মাদ্রে মানে মা আর পাদ্রে মানে বাবা। তোমার মা জানে না ওকে শেখাও।

আমি মোটেও শিখিনি। উল্টা বলেছি ‘গ্রাসিয়াস’।

মেয়ে বাপকে বলল, ও কিন্তু ‘ওলা’ বলে, আমার সঙ্গে মলে গেলে যেকোনো স্প্যানিশ মানুষকে দেখলেই ওলা বলেই সঙ্গে সঙ্গে বলবে, ‘কোমো এস্টাস’ (‘Cómo estás’)। বাপ সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘ওকে আর বেশি এগোতে দিয়ো না। দেখা যাবে ডালাসের সব মেক্সিকান এরপর বাংলায় কথা বলছে। দিলরুবাকে মেক্সিকোর নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন নিয়ে আমাদের বাসার সামনে লাইন ধরে দাঁড়ায়ে আছে। প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকবে- আমাদের দিলরুবাকে চাই।’

বাপ-মেয়ে খুব হাসছে।

হাসুক। আপনারা কিন্তু হাসবেন না। আপনারা আমার দলে।

পোর্ট ইসাবেল শহর

ওদের আমাকে নিয়ে মজা করতে করতে মেক্সিকোতে নামিয়ে আবার ফিরিয়ে আনার আগেই কিন্তু শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত আমাদের পৌঁছে যাওয়া হয়। সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ডের শহরটা এতটাই ছোট। দ্বীপটি প্রায় ১১৩ মাইল দীর্ঘ এবং ১ দশমিক ৮ মাইল প্রশস্ত। মূল রাস্তা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে ওধার থেকে এধার ফোডাফুডি করে রয়েছে মাত্র তিনটি- লাগুনা বুলেভার্ড, পাদ্রে বুলেভার্ড, গলফ বুলেভার্ড। এর থেকে ডানে বা বায়ে ছোট ছোট বহু রাস্তা ছুটে ছুটে গিয়ে দ্বীপের শেষ ভূমির মাথায় মাদ্রে লেগুনার তীরটা বা গলফ অব মেক্সিকোর তীরটায় ছুঁয়েছে। জনবসতি মাত্র ২৮১৮ (২০১৯ সাল)।

আজ সকালে খুব ভোরে উঠে আমরা এক ছুটে যে বালুকাময় বেলাভূমিতে গিয়ে আছড়ে পড়েছি, তেমনটি কিন্তু নয়। বেড়াতে বের হয়েছি বলেই যে দৌড়াব তা কিন্তু আমাদের থিউরি নয়, আরাম করে আনন্দ করে বেড়াব, এটাই আমরা চাই। আমরা সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি। রুম থেকেই তখন দেখি সমুদ্রের অন্য এক রূপ। জ্বলছে যেন ছামমাকছাল্লো রূপ নিয়ে। ডিগবাজি খাচ্ছে নিজেতে নিজে, নিজেতেই বিভোর এই নায়রাঙেনাজার। পানিতে নামব, তাই পানিবান্ধব জামা পরলাম, বাঙালি মুসলমান, অবশ্যই সুইমিং কস্টিউম বিকিনিতে অনভ্যস্ত, সে দেশ থেকে যত দূরেই থাকি না কেন! খুবই ভদ্র শালীন কাপড়ে দেখা করতে গেলাম সমুদ্রের সঙ্গে। তার আগে মেয়ে এসে বলে গেল, আমি সমুদ্রবান্ধব কাপড় পরব বলেছি বলে আব্বু বলল সে নাকি সমুদ্রবান্ধবী কাপড় পরবে, সেটি কী? দেখেছেন আমার বরের কাণ্ড! মেয়েকে বাংলা শেখাব বেশি বেশি করে, তাই বান্ধব শব্দের আগমন আমার ভাষাচিত্তে। সে এটা নিয়েও মজা করছে!

যা-ই হোক, প্ল্যান হলো লোকাল বাসিন্দাদের কোনো একটি দোকান থেকে ‘মম অ্যান্ড পপ’ শপ যাকে বলে তার থেকে কফি আর ডোনাট নেব, লোকাল মেইড কফি, লোকাল ডোনাট। সেটা নিয়ে সমুদ্রে চলে যাব। স্টার বাক্স বা ড্যান্কিং ডোনাট-এর চেইন আছে কি না, তা খুঁজেও দেখব না। যেখানে এসেছি তার নিজস্বতার স্বাদ নেব। যে কথা সেই কাজ। জিপিএস আছে যখন আর শুম পাখি সঙ্গে যখন, তখন আর কোনো কিছুই কি খুঁজে পাওয়া কঠিন! যা চাই তাই শুমা ওর ফোন সার্চ দিয়ে বের করে ফেলে। স্টিভ জবসের (অ্যাপল-এর প্রতিষ্ঠাতা) সেই স্বপ্নটি, জগৎটাকে হাতের মুঠিতে আনার পরিকল্পনা, যেন সার্থক হতে চলেছে এই জেনারেশনের, ফোনের ব্যবহার দেখলে তাই মনে হয় আমার। ঝটপট চটজলদি সবই করে ফেলে তারা ফোনে।

যে কথা সেই কাজ, আমরা কফিসহ বের হলাম সমুদ্রের দিকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইমতিয়াজ মত বদলে পথও বদলে ফেলেছে। সে আগে পুরো শহর সূর্যের আলোয় ঘুরে ঘুরে দেখবে, তারপর ডিসিশন নেবে কোনটার পর কোনটা করবে। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। পুরো শহরটি এক চক্কর দিয়ে ঘুরে আসতে ঘণ্টাখানেকও লাগে না । সে গলফ বুলেভার্ট দিয়ে সমুদ্রের পাশাপাশি গিয়ে পুরোটাতে এক চক্কর লাগিয়ে লেগুনা বুলেভার্ট দিয়ে ফিরে এসে খুচরাখাচরা অলিগলি দিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল। সুন্দর সুন্দর বাসাবাড়ি দেখতে দেখতে আমরা এগোলাম।

সমুদ্রসৈকতে অনেক প্রবেশপথ আছে, গেট ওয়ান, গেট টু, এভাবে নামফলক দেয়া আছে। আমরা কয়েকটিতে ঢুকলাম আবার বের হলাম, কয়েকটিতে গাড়ি চালালাম সমুদ্রসৈকতে। হঠাৎ ইমতিয়াজ বলল, সমুদ্রের বাতাসে যে খিদে পেয়ে যায়, কথাটা তো মনে হয় সত্যি। শুমও সঙ্গে সঙ্গে বাপকে সায় জানাল। বুঝলাম ওদের খিদা পায়ে গেছে। ক্ষুধার্ত তারা।

আমরা খেতে গেলাম সমুদ্রের তীরে খোলা রেস্টুরেন্টে, নাম ‘ওয়ানা ওয়ানা’। দেখতে অনেকটা থাবা, ঝুপড়ি ঘর টাইপের, এখানে এটার খুব খ্যাতি। দামও দেখলাম বেশি না, আমাদের খাবারগুলো প্রতি প্লেট ১৬-১৮ ডলার করে পড়েছে। ঝুপড়িতে বসার আনন্দটা হচ্ছে ঠিক সমুদ্রের পাশে বসে হাওয়া খেতে খেতে খাদ্যও খাওয়া যায়। সামনে বিচে নীল রঙের ছাতা পাতা, চাইলে গিয়ে ওখানেও বসে থাকা যাবে। এর সঙ্গে সম্ভবত লাগোয়া যে মোটেলটা রয়েছে, তার আবাসিক গেস্টরাই এটি বেশি ব্যবহার করে। মেয়েকে বললাম, রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে আসতে সি-গাল দেখার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে হবে কি না?

মেয়ে জেনে এসে বলল, চলো ব্রেড ছড়িয়ে দিলে ওরা চলে আসবে। দিলাম, ওরে আল্লাহ, আকাশ-বাতাস ছেয়ে গেল পাখিতে। ইমতিয়াজের বন্ধু মনে হয় ওরা, হাঙরও ছিল, সমুদ্রের বাতাসে ওদের খিদা পেয়েছে। নিঃসন্দেহে আকাশ ছাপানো পাখিময়তার সৌন্দর্য ভুবন ভোলানো।

খুব গুনগুনিয়ে গাইতে মন চাইল,

‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ।

আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনা বালি তীর ধরে বহু দূর বহু দূর হেঁটে এসেছ। আমি কখনো যাইনি জলে কখনো ভাসিনি নীলে কখনো রাখিনি চোখ ডানা মেলা গাঙচিলে।’

হলো হাউমাউখাউ-জাতীয় কিছু, আমার গলায় শোনাল চিল্লাচিল্লি। উফ যারা গাইতে পারে তারা কি অসাধারণ মানুষজন! পারে কেমন করে গলায় এত সুর তাল-লয় নিয়ে ঘুমাতে! খেতে! কথা বলতে! আমার কেবলি মনে হলো গাইতে পারলে আমার গলাটি মাফলার দিয়ে পেঁচিয়ে চেপে ধরে বসে থাকতাম।

খাবারের অর্ডার করে নামলাম আমরা হেঁটে সৈকতে। সমুদ্রের পাড়ে পাড়ে আছে পড়ে হাত-পা ছেড়ে অগুন্তিক শামুক-ঝিনুক আর জেলি ফিশ। এত বেশি যে আমি আসলেই অবাক। আগেই ইমতিয়াজ দেখিয়ে রেখেছিল জেলি ফিশের আত্মীয় ম্যান-ও-ওয়ারের (Portuguese Man-O-War) ছবি, ভুলেও যেন এটা না ছুঁই বা না মাড়াই। ইমতিয়াজ শুমাকে তখনই বলে রেখেছিল, তোমার মায়ের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে, ও না আবার এটি হাতে তুলে বেলুনের মতো কেন এটি দেখতে তা নিয়ে ফুঁ-টু দিয়ে দেখতে চেষ্টা না করে বসে। অবশ্য আরো জানিয়েছিল, আমরা যে বিচগুলোতে যাব, সেখানে এগুলো থাকার সম্ভাবনা এই সময়ে কম, যখন থাকে প্রকোপ, তখন ওই অংশে বেগুনি পতাকা উড়িয়ে রাখা হয় সাবধান বাণীর ঘোষণা হিসেবে। তারপরও দেখলাম, আমি কয়েকটি শামুক কুড়াচ্ছি দেখে শুমা আমাকে সাবধান করছে, নীল বা বেগুনি কিছু দেখলে ছুঁতে চাইবা না, হাতে কিছুই ছোঁবা না। মাঝে মাঝে বুঝি না আমি, কে কার মা! মা আমি না সে?

পাদ্রে বিচ। খাবার ছিটিয়ে দেয়ায় দল বেঁধে ওনারাও নিমন্ত্রণ রক্ষা করে গেছেন, আমার সঙ্গে ছবিও তুলেছেন

ইমতিয়াজ দূরে রেস্টুরেন্টের খোলা চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।

খাবার শেষে বের হয়ে গেলাম আরেকটি বালুকাবেলায়, বিচ সাইডে, এখানে বালু দিয়ে কতজন কত কী বানাচ্ছে। দেখলাম, ওই নেংটি রাজা কিছু বানাচ্ছে। রানীর চোখ কাপড়ে বাঁধা। হাতে ডাব নিয়ে স্ট্র ঢুকিয়ে দাঁড়ায়ে আছে। আজ দেখে বুঝলাম, ওরা সুতা দড়ি না কাপড়ও চেনে। চেয়ে দেখলাম একটা প্রাসাদের মতো বানিয়ে তাতে লিখেছে- উইল ইউ মেরি মি? বিয়ের প্রপোজাল। কতজন যে কতভাবে দিতে পারে! নিশ্চয়ই ওই ডাবের ভেতরে আংটি আছে। না বললে আটকাবে ওই আংটি গলায়, এই ভেবে আমি নিজেই হাসলাম। হঠাৎ কেন যেন ওদের দুজনকে আমার ভালো লেগে গেল। ২৩-২৪ বছরের একজোড়া কপত-কপোতী। ওরা যে সমাজে যে সময়ে যেভাবে বেড়ে উঠেছে, তাতে ওদের পোশাক ওদেরই নিজস্ব বিষয়, আমার মতামত সেখানে অনাহূত, রবাহূত। আমার শুধু ওদের আনন্দটুকুতেই চোখ থাকুক।

ডলফিন দেখব বলে ছুটলাম আমরা পোর্ট ইসাবেল, ‘ডলফিন অ্যান্ড সি-লাইফ রিসার্চ সেন্টার’-এর দিকে। সামুদ্রিক প্রাণীর যে রিসার্চ সেন্টারটি রয়েছে লাইট হাউসের পাশেই, সেটির চেয়ে ডলফিন দেখার ইচ্ছা ছিল বেশি। অনলাইনে শুমি আগেই টিকিট কেটে রেখেছিল। জনপতি $২৫ ডলার। দেড় ঘণ্টার সমুদ্র সম্ভোগ ডলফিনের সঙ্গে। ডলফিনের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও সাঁতরাব নৌকা নিয়ে। বোটের যে চালক বা ডলফিন ইনভাইটার থাকবেন, উনি আমাদের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বললেন, সবাই হাসিখুশি থাকবেন, এটি ডেলফিনকেও হাসিখুশিভাবে আমাদের সঙ্গে থাকতে সাহায্য করবে। ডলফিন অতি বুদ্ধিমান প্রাণী।

আরো যোগ করলেন, মানুষের মনোভাব বুঝতে পারে ডলফিন।

এদিক-ওদিক চেয়ে দেখলাম কার জন্য এই বাণী এল। সেই তিনজন অন্ধ শিশুর দলটিকে দেখলাম। এমন বাংলার পাঁচ বানিয়েছে মুখগুলাকে যেন ওরাই বাংলা থেকে এসেছে। বুঝলাম না কী হয়েছে? একটু পরে যখন একজন মা এগিয়ে এসে সবাইকে বলছে কেউ কি রাজি হবে আজকের সিট ছেড়ে দিতে, তখন বুঝলাম ছয়জনের টিকিট হয়তোবা পায়নি, অথবা কয়েকজনের জন্য পেয়েছে। কেউ যাবে কেউ বাদ পড়বে। কিন্তু ওরা একসঙ্গে যেতে চায়। শুমা বলল, মা আমরা দিয়ে দিই ওদের, যাক ওরা, কাল আমরা আবার আসতে পারব। ওই অন্ধ শিশুগুলোর জন্য মেয়ের মমতা ভালো লাগল। যদিও শুমা হিসাব মেলাতে পারল না কীভাবে হবে, এক মা দুই শিশু, দুই মা এক শিশু, কীভাবে যাবে সবাই তিন টিকিটে।

আমি বললাম একজন এগিয়ে এলে অনেকে আসে। মানুষ সব সময় একধরনের নেতৃত্ব চায়। তুমি আগে আগাও, পিছু নেবে অনেকে, আমরা ফিরতে ফিরতে দেখলাম অনেকেই এগিয়েছে। মহিলাটি আমাদের

তিনটি টিকিটের দাম দিয়ে দিল।

ওটা আমি নিতে চাইছিলাম না। টিকিটের বদলে ওদের থেকে ডলার নেব ফেরত এ কেমন হলো। গিফট করে দেব এই তো বুঝি। বাঙালি মানসিকতা। শুমা বলল, মাম ওটা ওভাবে শুধু শুধু ওরাও নেবে না, মুভ অন, নট এ বিগ ডিল।

কাছাকাছি থাকা লাইট হাউসের নিচে একটা ঘুরন দিলাম। তারপর সবুজ ঘাসে বসে পড়লাম। শুম গেল সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতে। কখনো চুপচাপ বসে থাকতেও অনেক আনন্দ। ইমতিয়াজও এসে বসে পড়ল। বলল আমার গোগোটা বড্ডো হৃদয়বতী হয়েছে। আমিও সঙ্গে সঙ্গে বললাম, হ্যাঁ, মায়াবতী, আমার মতো হয়েছে। ইমতিয়াজ হাসল, বলল, না আমার মেয়ে আমার মতো হয়েছে। এই পৃথিবীর আর সব বাবা-মায়ের মতো ‘তোমার মতন না আমার মতন’- এর সেই চিরন্তন এক চেনা তর্কে আমরাও মাতোয়ারা হলাম।

ছোট্ট শহর পোর্ট ইসাবেল ঘুরে দেখলাম, চিরুনির মতো সরু সরু পানিবাহী নদ-নালা-খালের মতো টুকরা টুকরা তটিনীর ধারে ধারে বাড়িঘর দাঁড়িয়ে রয়েছে এমনভাবে, যা যেকোনো মানুষকে মনে করিয়ে দেবে এ তোমার অবসরের খুব ভালো আবাস।

কেউ বিশ্বাস করবে না বললে যে এরপরও আবার আমরা সি-বিচে গেলাম সেদিন। বহু বিচ বহু দিকে, টানছে, ডাকছে সৈকত, মনে হচ্ছে সব কটিতে গিয়ে গিয়ে বসা দরকার। এরপর সেখান থেকে খেতে গেলাম ‘লুইস বেক ইয়ার্ড’-এর খোলা ডেকে।

বুফে নাইট, জনপ্রতি ৩৩ ডলার। ডেকে বসে গান শুনবে, খোলা সমুদ্রের হওয়া খাবে, সীমাহীনভাবে খেয়ে যেতেই পারবে ডায়েটিংয়ের তোয়াক্কা না করেই, বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি, তেলাপিয়া, কত কী ধরনের স্টেক, এই দাম তো ঠিকই আছে । খাবারের দাম আমার কমই মনে হচ্ছে এই ট্যুরিস্ট সিটির সবখানেই।

রাতে রুমে এসে আরেক মহানাটক।

সে নাটকের কথা বলার আর শক্তি নেই এই মুহূর্তে, মশী ভাই আর নিলুফারের নাটক শেষ হতেই তখনই ধপ করে বিছানায় পড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম, তারপর রাতের ১২টায় ঘুম ঘুম চোখে বারান্দায় ইমতিয়াজের পাশে এসে বসলাম। কী ঝিরঝিরে বাতাস।

আপন মনেই বললাম, আহা কী আনন্দময় একটা দিন পার করলাম। রঙিলা দিন। শোকর আলহামদুলিল্লাহ।

ছবি: ইমতিয়াজ আহমেদ

লেখক পরিচিতি: দিলরুবা আহমেদের কর্মজীবনের সূচনা হয়েছিল প্রভাষক হিসেবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আইটি ফিল্ডে কর্মরত। ইতোমধ্যে তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলির মধ্যে টেক্সাস টক, আমার ঘরে এসো, আঠার, ঝুমকোলতার সারাটা দিন, মাছের মায়ের পুত্র শোক, এসো হাত ধরো, হেঁটে চলেছি বন জোসনায়, ব্রাউন গার্লস, গ্রিনকার্ড, টেক্সান রানী ও ব্লু বনেট, বলেছিল, প্রবাসী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

শিল্প ও সাহিত্য বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : ‍[email protected]
AD

সাম্প্রতিক

ম্যানইউ, আর্সেনাল এসি মিলান শেষ ষোলোতে

ম্যানইউ, আর্সেনাল এসি মিলান শেষ ষোলোতে

টিভিতে ২৬ ফেব্রুয়ারির খেলা

টিভিতে ২৬ ফেব্রুয়ারির খেলা

সবকিছু আইসিসির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন রুট

সবকিছু আইসিসির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন রুট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার মুসতাকের কারাগারে মৃত্যু

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার মুসতাকের কারাগারে মৃত্যু

ফ্যানের ইতিহাস

ফ্যানের ইতিহাস

একটি বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা

একটি বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম তৈরির চেষ্টা

পোশাকে প্রকৃতি...

পোশাকে প্রকৃতি...

সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ড: ছয়

সাউথ পাদ্রে আইল্যান্ড: ছয়

কী মধুর বাংলা ভাষা

কী মধুর বাংলা ভাষা

ঢাকাইয়া স্বাদের তুলনা নেই

ঢাকাইয়া স্বাদের তুলনা নেই