সব
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

বাঁশের সাঁকোই ৯ গ্রামের মানুষের ভরসা

মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা পেলেন ড. হীরা সোবাহান

হবিগঞ্জে ৩ পৌরসভায় হেরে যা বলছে আ.লীগ

অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, বিএনপি পাস করলেও বিগত পাঁচ বছরে তাদের ভোট খুব একটা বাড়েনি।

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:০৭

হবিগঞ্জের তিনটি পৌরসভাতেই জিতেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। শুধু তা-ই নয়, মাধবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা চেয়ারে এই প্রথম বসছেন বিএনপির হাবিবুর রহমান মানিক। অবশ্য শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর পৌরসভায় নৌকার ভরাডুবির পেছনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের দায়ী করছে দলটি।

অন্যদিকে নবীগঞ্জ পৌরসভা ২০১৫ সাল থেকে ছিল বিএনপির দখলে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরীর বাড়ির এই পৌরসভাটি উদ্ধারে বেশ চেষ্টাও করেছে আওয়ামী লীগ। দিয়েছিল প্রভাবশালী প্রার্থীও। বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের জামাতা গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী বিএনপির কাছে হারলেও লড়াই করেছেন হাড্ডাহাড্ডি।

অবশ্য পরিসংখ্যান বলছে, বিএনপি পাস করলেও বিগত পাঁচ বছরে তাদের ভোট খুব একটা বাড়েনি।

মাধবপুরে গত পাঁচ বছরে ধানের শীষের ভোট বেড়েছে মাত্র ৮৩টি। ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে বিএনপির মানিক পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯৪৮ ভোট। পাঁচ বছর পর একই প্রার্থী একই প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৩১ ভোট। সে হিসাবে পাঁচ বছরে বিএনপির ভোট বেড়েছে মাত্র ৮৩টি।

অন্যদিকে নবীগঞ্জে গত নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে পড়েছিল ধানের শীষের ৫ হাজার ৬২১ ভোট। এবার একই প্রার্থীর একই প্রতীকে ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৭৪৯। পাঁচ বছরে বেড়েছে মাত্র ১২৮ ভোট।

গত নির্বাচনে নবীগঞ্জে নৌকার প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। এবার প্রার্থী বদল করে নৌকায় ভোট পড়েছে ৫ হাজার ৪৮৫ ভোট। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে নবীগঞ্জে নৌকার বেড়েছে হাজার ৭১২ ভোট।

প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির ফরিদ আহমেদ অলি ধানের শীষ প্রতীকে ৪ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে মাসুদুজ্জামান পান ৩ হাজার ১৪১ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ছিল ৯০০।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছালেক মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৫৯৯ ভোট। দলের অপর দুই বিদ্রোহী ফজল উদ্দিন তালুকদার পেয়েছেন ১ হাজার ৫১০ ভোট ও আবুল কাশেম ১ হাজার ৪৩০ ভোট।

দলটির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য ছিল, যদি আওয়ামী লীগ থেকে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী কম হতো, তাহলেও শায়েস্তাগঞ্জ নৌকার দখলে থাকত। কেননা তিন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৩৯ ভোট। আর আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে এই তিনজনের প্রাপ্ত ভোট মাসুদুজ্জামান পেলে তার ভোট দাঁড়াত ৮ হাজার ৬৮০টি, যা ধানের শীষের প্রায় দ্বিগুণ।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, শায়েস্তাগঞ্জের অবস্থার পুনরাবৃত্তি হয়েছে মাধবপুরেও। মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়ে আবির্ভূত হন প্রভাবশালী দুই প্রার্থী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুবারের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মুসলিম (জগ) এবং গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হিরেন্দ্র লাল সাহার ছোট ভাই পংকজ কুমার সাহা (নারকেল গাছ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রভাবশালী দুই বিদ্রোহী মাঠে থাকাটাই নৌকার কাল হয়েছে। শনিবারের ভোটে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মানিক জিতেছেন ৫ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে। দ্বিতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়া পংকজ কুমার সাহা। নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ১৫৬টি; যা বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ৮৭৫ ভোট কম।

ক্ষমতাসীন দলের আরেক বিদ্রোহী দুবারের সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. মুসলিম এখানে তৃতীয় হয়েছেন। জগ মার্কায় তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৯ ভোট। তারা বিদ্রোহী না হলে এসব ভোট নৌকায় পড়ত বলে দাবি তাদের।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ্রীধাম দাশগুপ্তের নৌকায় ভোট পড়েছে মাত্র ৫৬৮টি। যত ভোট পড়েছে তার সাড়ে ১২ শতাংশ না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই প্রথম মাধবপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি পেয়েছে জামানত হারানোর লজ্জাও।

জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দলের প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে বিদ্রোহীদের দায়ী করলেও মানতে নারাজ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

তাদের দাবি, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল ছিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের। পাশাপাশি প্রার্থীর আচার-আচরণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটের এক দিন আগে মামলা দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এরশাদ আলী বলেন, ‘নৌকা যাকেই দেয়া হবে আমরা তার হয়েই কাজ করব। কিন্তু নৌকা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ্রীধাম দাশগুপ্ত দলের কোনো নেতা-কর্মীরা সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। উল্টো নির্বাচনের এক দিন আগে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। যে কারণে দলীয় নেতা-কর্মী তো বটেই, সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এখানে অনেক ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা-কর্মী আছেন। অনেক সময় এই ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় জনপ্রিয়তার কারণে বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ান। যে কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভরাডুবি হচ্ছে।’

২০১৫ সালের নির্বাচনে নবীগঞ্জ পৌরসভাটি বিএনপির দখলে চলে যায়। এ পৌরসভাটি উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সব বিভক্তি ভেঙে এককাট্টা হয়ে কাজ করেছে দলটি। যে কারণে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও এখানে ছিল আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী।

বেশ শক্তিশালী প্রার্থীও দিয়েছিল দলটি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের জামাতাকে এই পৌরসভায় মনোনয়ন দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এসেছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন থেকে শুরু করে আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনও এখানে এক সপ্তাহ প্রচার চালিয়েছেন। সেই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচারে গিয়েছেন। কিন্তু এরপরও শেষ হাসি হাসা হয়নি, উদ্ধার হয়নি পৌরসভাও।

ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ছাবির আহমেদ চৌধুরীর কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরী হেরেছেন ২৬৪ ভোটে। এখানে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৯ এবং আওয়ামী লীগের গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর নৌকায় পড়েছে ৫ হাজার ৪৮৫ ভোট। ভোটে হেরে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি তারা দুটি কেন্দ্রের ফল পুনরায় গণনার দাবি জানিয়েছে।

ফল প্রত্যাখ্যানের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ‘চক্রান্ত করে প্রশাসন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ফেল করিয়ে দিয়েছে।’ এ ব্যাপারে তারা দুটি কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনার আহ্বান জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।

এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী মেয়র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন আগেও চারবার করেছি। এ নির্বাচন আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হেভিওয়েট। তিনি বন ও পরিবেশমন্ত্রীর জামাতা।’

ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে করি, জনগণ আমাকে ভালোবাসে বলেই বিজয়ী করেছে। আমি জনগণের এই ভালোবাসার যখাযথ মূল্যায়ন করার চেষ্টা করব।’

/এআই/

বাঁশের সাঁকোই ৯ গ্রামের মানুষের ভরসা

বাঁশের সাঁকোই ৯ গ্রামের মানুষের ভরসা

মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা পেলেন ড. হীরা সোবাহান

মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা পেলেন ড. হীরা সোবাহান

শপথের পাঁচ দিনের মাথায় কাউন্সিলরের মৃত্যু

শপথের পাঁচ দিনের মাথায় কাউন্সিলরের মৃত্যু

রূপগঞ্জে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা

রূপগঞ্জে বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা সোমবার

দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা সোমবার

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’তে বইয়ের কেজি ৫০ টাকা!

‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’তে বইয়ের কেজি ৫০ টাকা!

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

জামালপুরে তিন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

জামালপুরে তিন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

গ্যাল গ্যাডটকে প্রিয়াঙ্কার উপহার

গ্যাল গ্যাডটকে প্রিয়াঙ্কার উপহার

টেইলর সুইফটের ‘লাভ ফেস্ট’ ট্যুর বাতিল

টেইলর সুইফটের ‘লাভ ফেস্ট’ ট্যুর বাতিল

আমেরিকা কাঁপাল জাপানের যে অ্যানিমেশন সিনেমা

আমেরিকা কাঁপাল জাপানের যে অ্যানিমেশন সিনেমা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ