সব
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

চুরি যাওয়া স্বীকৃতি: পৃথিবীর শীর্ষ শৃঙ্গের আবিষ্কারক 

অধীনস্থ সহকর্মী হিসেবে রাধানাথকে গুরুত্ব দিলেও এতো বড় স্বীকৃতি দিতে তিনি বা বৃটিশরা আগ্রহী ছিলেন না। তাদের বর্ণবিদ্বেষের চূড়ান্ত শিকার হন রাধানাথ।

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪৫

উপমহাদেশে শাসন করতে এসে বৃটিশরা শাসকরা শুধু ধন সম্পদ চুরি করেননি। অনেক সাফল্যও চুরি করে নিয়ে গিয়েছেন। এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আবিষ্কারকের বেলায়। হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ যেটিকে বৃটিশরা নাম দিয়েছেন মাউন্ট এভারেস্ট- তার প্রকৃত উচ্চতা নির্ধারণ এবং এটিই যে পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ সে কথাটি প্রমাণ করেছেন একজন বাঙালি গণিতবিদ, ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ রাধানাথ শিকদার।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর শিকদারপাড়ায় ১৮১৩ সালের অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেন রাধানাথ শিকদার। তার বাবা তিতুরাম শিকদার। তাদের পারিবারিক কাজ নিরাপত্তারক্ষীর হওয়ায় পড়াশোনার চর্চা সেখানে তেমন ছিল না। অভাব অনটনের মধ্যে তাকে বড় হতে হয়। তিনি নিজের পরিবার সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘কলেজে একমনে পড়িতে পাইতাম না। একবার পড়ার কথা মনে পড়িত, পরক্ষণেই বাটিতে ফিরিয়া কি খাইব, মা বুঝি এখনও কিছু খান নাই এই সকল ভাবনা মনে উত্থিত হইয়া পড়ায় ব্যাঘাত ঘটিত।’

দরিদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করলেও মেধাবী রাধানাথ খুব অল্প সময়েই সবার নজর কেড়ে নেন। তিনি নিজ আগ্রহে স্কুলে পড়া শুরু করেন এবং স্কুলে কয়েক দফায় ডাবল প্রমোশন পান। তিনি মাসে ষোল টাকা করে বৃত্তি পেতেন। যার বড় অংশ দিয়েই তিনি বই কিনে ফেলতেন। ছাত্রজীবনে  হেনরি ডিরোজিও এবং ডেভিড হেয়ারের মতো শিক্ষক ও পণ্ডিত তার জীবনেকে প্রভাবিত করেন।

হিন্দু কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় গণিতের অধ্যক্ষ জন টাইটলার তাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। টাইটলারের অনুপ্রেরণায় রাধানাথ বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের লেখা ‘প্রিন্সিপিয়া’ বইটি বন্ধু রাজনারায়ণ বসাকের সাথে মিলে পড়ে ফেলেন। সমসাময়িকদের ও সহপাঠীদের মধ্যে বইটি সম্পর্কে তখনো কোনো ধারণা ছিল না। তিনি গণিত বা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হলেও অবলীলায় শেক্সপিয়ার মুখস্ত বলতে পারতেন। পরবর্তী জীবনে সাহিত্যিক বন্ধু প্যারীচাঁদ মিত্রের সঙ্গে যৌথভাবে সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করেন রাধানাথ শিকদার। বিজ্ঞানে তীব্র আকর্ষণ ছিল রাথানাথ শিকদারের। কয়েকটি বিজ্ঞানের বই সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করেন।

১৮৩১ সালে বৃটিশ ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল জর্জ এভারেস্ট ত্রিকোণমিতিতে অভিজ্ঞ এমন কাউকে খুঁজছিলেন। হিন্দু কলেজের গণিতের অধ্যক্ষ জন টাইটলার তার প্রিয় ছাত্র রাধানাথকে সেখানে পাঠান। মাত্র ঊনিশ বছর বয়সেই মাসে চল্লিশ টাকা বেতনে রাধানাথের চাকরি হয়ে যায় তার অসাধারণ মেধার কারণে। গ্রেট ট্রিগোনোম্যাট্রিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হয়ে দেরাদুন, তেরাই প্রভৃতি অঞ্চলে কাজ শুরু করেন। রাধানাথ সার্ভেয়ার পদ থেকে প্রমোশন পেয়ে কমপিউটার বা গণনাকারী পদে নিয়োগ পান। বিভিন্ন এলাকায় হিমালয়ের শৃঙ্গ নিয়ে কাজ করতে থাকেন। ১৮৫১ সালে তাকে দার্জিলিং পাঠানো হয়। তার প্রতি এভারেস্ট এতো বেশি নির্ভর করতেন যে তাকে অন্য কোথাও চাকরি নিয়ে যেতে তিনি সরাসরি বাধা দিতেন। এক সময় জর্জ এভারেস্ট অবসরে চলে গেলে তার পদে যোগ দেন কর্নেল অ্যান্ড্রু স্কট ওয়া। তিনিও রাধানাথকে অন্য কোথাও যেতে দিতেন না। রাধানাথ তাদের এ বাধার কারণে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার পরীক্ষাও দিতে পারেন নি।

জরিপ কাজ সহজ করতে চাকরিতে থাকা অবস্থায়  জর্জ এভারেস্ট এক্সরে ট্রেস সিস্টেম নামে একটি পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। থিওডোলাইট নামের যন্ত্রের সাহায্যে ত্রিভুজ নিরূপণ করে এই ম্যাপের কাজ নির্ধারণ করা হতো। হিমালয় বেস ক্যাম্প থেকে ডেটা নিয়ে ফিরে রাধানাথ শিকদার  বিচার বিশ্লেষণ শুরু করেন। অন্য সার্ভেয়ারগণও তথ্য পাঠান তাকে। ১৮৪৫-৫০ সালের মধ্যে হিমালয়ের মোট ৭৯টি পর্বত শৃঙ্গের উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ৩১টি শৃঙ্গের নাম পাওয়া যায়। বাকিগুলো ১,২,৩ নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ১৮৫২ সালে রাধানাথ ১৫ নাম্বার শৃঙ্গের ওপর কাজ করতে গিয়ে বিস্মিত হলেন। দেখলেন এর উচ্চতা ২৯,০০২ ফিট! অন্যরা এটি খেয়াল করেন নি। চিফ কমপিউটার রাধানাথ শিকদার তার উর্ধ্বতন কর্নেল অ্যান্ড্রু স্কট ওয়ার কাছে গেলেন। বললেন, ‘স্যার আই হ্যাভ ডিসকোভার দি হাইয়েস্ট মাউনটেন ইন দি ওয়ার্ল্ড। আমি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ আবিষ্কার করেছি!’

ছয়টি দিক দিয়ে নিরীক্ষার পর তিনি নিশ্চিত হন বিষয়টি সম্পর্কে। অ্যান্ড্রু স্কট ওয়া রাধানাথের কথা বিশ্বাস করেননি। পরবর্তীতে দুই বছর ধরে নানা জরিপ পরিচালনা করে তিনি দেখেন রাধানাথ শিকদার যা বলেছেন তা নির্ভুল। তথ্যটি নিশ্চিত হয়ে তিনি বিষয়টি বৃটিশ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু রাধানাথ শিকদারের কৃতিত্বের কথা এড়িয়ে যান। অধীনস্থ সহকর্মী হিসেবে রাধানাথকে গুরুত্ব দিলেও এতো বড় স্বীকৃতি দিতে তিনি বা বৃটিশরা আগ্রহী ছিলেন না। তাদের বর্ণবিদ্বেষের চূড়ান্ত শিকার হন রাধানাথ। জর্জ এভারেস্ট সে সময় সেখানে না থাকা সত্ত্বেও এবং জরিপ কাজ থেকে অবসরে থাকলেও অ্যান্ড্রু স্কট ওয়া সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নামকরণ করেন ‘মাউন্ট এভারেস্ট’। কোনো কোনা জায়গায় প্রথমে রাধানাথের কথা সামান্য এলেও এক সময় তা মুছে দেয়া হয়। ইতিহাসবিদ ড. বারিদবরণ ঘোষ জানিয়েছেন, সে সময়ে প্রকাশিত বইপত্রে ‘বাঙালি বাবু’ রাধানাথকেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের আবিষ্কারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

১৭ মে ১৮৭০ সালে রাধানাথ শিকদার ৫৭ বছর বয়সে মারা যান। যিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আবিষ্কার করেছিলেন।

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

সুখী মানুষের দেশে সোয়া লাখ বছরের সভ্যতা!

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ

৪২ হাজার বছর আগে নিয়েন্ডারথাল প্রজাতির বিলুপ্তি!

৪২ হাজার বছর আগে নিয়েন্ডারথাল প্রজাতির বিলুপ্তি!

প্রত্নতত্ত্বের কাজ ছিল যার সাধনা

প্রত্নতত্ত্বের কাজ ছিল যার সাধনা

জলদস্যু নেতা থেকে পর্তুগিজ ভাইসরয়

জলদস্যু নেতা থেকে পর্তুগিজ ভাইসরয়

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনা মূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ!

‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’তে বইয়ের কেজি ৫০ টাকা!

‘ব্যতিক্রম লাইব্রেরি’তে বইয়ের কেজি ৫০ টাকা!

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

জামালপুরে বিএনপির পুনর্নির্বাচন দাবি

জামালপুরে তিন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

জামালপুরে তিন পৌরসভায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু

গ্যাল গ্যাডটকে প্রিয়াঙ্কার উপহার

গ্যাল গ্যাডটকে প্রিয়াঙ্কার উপহার

টেইলর সুইফটের ‘লাভ ফেস্ট’ ট্যুর বাতিল

টেইলর সুইফটের ‘লাভ ফেস্ট’ ট্যুর বাতিল

আমেরিকা কাঁপাল জাপানের যে অ্যানিমেশন সিনেমা

আমেরিকা কাঁপাল জাপানের যে অ্যানিমেশন সিনেমা

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ