সব
বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
DBBL Ad

ভারতের প্রতি ভালোবাসা

ভ্যাকসিন নিয়ে ভয় ও অজ্ঞতাকে না বলুন

অবশেষে ট্রাম্পের বিদায়

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১১:১৯

কাজী ডব্লিউ স্বপন, একজন আইনজীবী। বর্তমানে নিউইয়র্কের অধিবাসী। তিনি আজ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো:

"বুধবার নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা ও শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি পঁচিশ হাজার ন্যাশনাল গার্ড (সেনা সদস্য ) মোতায়েন করা হয়েছে শুধু ওয়াশিংটন ডিসিতেই। যা কিনা ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে মোতায়েন করা সংখ্যার দ্বিগুনেরও বেশি। একই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ট্রাম্প সমর্থকদের হুমকি মোকাবিলায় প্রত্যেক স্টেটের রাজধানীতেও কঠোর নিরাপত্তায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনা সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে করোনা মহামারীতে দিনে গড়ে তিন হাজার মানুষের প্রানহানি ঘটছে। বুধবার সকালে ক্যাপিটাল হিলে বাইডেনের শপথ গ্রহন চলাকালে, বিদায়ী ও ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অনুষ্টানে যোগ না দিয়ে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে রওনা হবেন তার ফাইনাল গন্তব্যে। আমেরিকার শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট যে তার উত্তরসূরি প্রেসিডন্টের ইনোগরেশনে যোগ দিচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে, মাত্র উনত্রিশ শতাংশ আমেরিকানদের এপ্রোভাল রেট নিয়ে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে বাধ্য হলেন আমেরিকার ইতিহাসের সর্বনিন্দিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নিজ দলের সিনেটের মেজরিটি নেতা, ও স্পীকারসহ ডেমোক্রেট দলীয় নেতাদের হত্যা ও অপহরণ করার লক্ষ্যে ক্যাপিটাল হিল আক্রমণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও শনাক্ত করাও এগিয়ে চলেছে। সারাদেশে এফবিআই তাদের তদন্ত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তার জ্যৈষ্ঠ সন্তানরা, তার সহযোগী এটর্নি রুডি জুলিয়ানি, হোয়াইট হাউজ চীফ অব ষ্টাফ, Senator Ted Cruz and Josh Hawley সহ কিছু কংগ্রেসম্যান ও যারা ঐদিনের সমাবেশে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তৃতা দিয়েছেন, ধ্বংসযজ্ঞ কালে পার্টি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন তাদের কর্মকান্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোটারদের অধিকাংশই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। সে কারনেই ট্রাম্পের রাজত্বকালের সমাপ্তি ঘটেছে। এমনকি ২০২৪ এ প্রতিযেগিতায় ফিরে আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কংগ্রেস তাকে ইতিমধ্যেই ইম্পিচড করেছে । তিনিই একমাত্র প্রেসিডন্ট যিনি দুইবার ইম্পিচড হয়েছেন। সিনেটের বিচারে দোষী হলে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তিনি হারিয়ে যাবেন। অদৃশ্য হবেন। এক সময়ে তাঁর আলোচনা শোনা যাবে না। কখনো আলোচনায় আসলেও নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে আসবে। মানুষজন এখনই বলতে শুরু করেছে Don’t tell lie like Trump.
মার্চ ২০২০ এর শুরু থেকে নানান সময়ে ট্রাম্প কমপক্ষে ৪০ বার মিথ্যে বলেছিলেন যে, কোভিড-১৯ যেকোনো সময়ে উধাও হয়ে যাবে। যদিও তা’ হয়নি; বরং চেপে বসেছে। করোনা মহামারী মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রাস করতে বসেছে। সুতরাং কোভিড-১৯ সহজে আমেরিকা থেকে উধাও না হলেও ট্রাম্পকে সরে যেতে হচ্ছে এটি এখন সত্য। বাইডেন প্রশাসন প্রতিদিন এক মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেবার যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হবে বলেই সকলে ধারনা করছেন।
নাইন ইলেভেন টেররিষ্ট এটাকের হাত থেকে ক্যাপিটাল হিল রক্ষা পেলেও ট্রাম্পের অনুসারী ডমিষ্টিক টেররিষ্টদের হাত থেকে রেহায় পায়নি। এটাই বাস্তবতা। পৃথিবীর ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যাকে টুইট, ফেসবুক, গুগল, এ্যাপল, আমাজান, অনেক বানিজ্যিক ব্যাংক স্হায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
একজন বাংলাদেশী আমেরিকান ও এশিয়ান ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আমেরিকায় ক্যাপিটাল হিল ধ্বংসযংজ্ঞের এই ঘটনাকে সহজে মেনে নিতে পারছি না। আইনের ছাত্র হয়েও এখানকার কলেজে আমেরিকান ইতিহাসের কিঞ্চিত পড়েও যতটুকু জেনেছি, তার সংগে এই ঘটনা পুরোই সাংঘর্ষিক। ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় বার বার মনে পড়ছিল বাংলাদেশের আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রজীবনের কথা। সামরিক স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আন্দোলনকে বানচাল করতে পুলিশ ও তার পেটুয়া গুল্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেয়ার কথা। ছাত্রমিছিলে পুলিশের ট্রাকচাপা ও গুলি করে ছাত্র জনতা হত্যার কথা। এরশাদ করেছিল ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে আর এই দ্বিতীয় বিশ্ববেহায়া ট্রাম্প করেছে এদেশের নির্বাচিত কংগ্রেস ও সিনেটরদের বিরুদ্ধে। জেনারেল এরশাদ তার প্রশাসনকে লেলিয়ে দিয়েছিলেন গনতন্ত্রের জন্য, ভোটের জন্য আন্দোলনকারী দেশের ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে, আর ট্রাম্প করেছে তার অনুসারী গুন্ডাবাহিনী, হোয়াইট সুপ্রীমেসিষ্ট, কিউএনন নামের বিভিন্ন রেসিস্ট হেট্রিয়েট গ্রুপকে লেলিয়ে দিয়ে তার নিজ ভাইস প্রেসিডেন্ট, নিজ দলের নেতা ও সমগ্র আইনসভা তথা কংগ্রেস ও সিনেটের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় রেসিস্ট ট্রাম্প ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে নারী বলে উল্লেখ করে অশ্রাব্য ভাষায় খারাপ শব্দ প্রয়োগে গালি পর্যন্ত দিয়েছে। স্পীকার ন্যান্সি পেলসিসহ অনেককে হত্যা বা অপহরণে অনুপ্রাণিত করেছে। যা আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম।
এ ঘটনা কেবল ১৯৩৮ সালে নাৎসীদের নিজেদের শ্রেষ্টত্ব প্রমানের জন্য মিথ্যা আর মিথ্যার বেসাতি করে করে জুইসদের গ্যাস চেম্বারে হত্যা করে তাদের সমাজকে যে অবস্হায় ঠেলে দিয়েছিল, ২য় বিশ্বযুদ্বের পর ইটালি জার্মান ও তাদের নেতৃত্বাধীন দেশ সমূহের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর যে অবস্থা হয়েছিল তার সাথেই তুলনা করা চলে। ইটালি, জার্মানরা সেই অবস্হান থেকে বহু আগেই বেরিয়ে এসেছে। আর আজকের ট্রাম্পিজমের অন্ধ আক্রোশের জেরে আমেরিকায়ও একই ধরনের পরিস্হিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে সুখের বিষয় যে, নেতারা তাদের দেশপ্রেম, সততা, ও সাহসিকতার মাধ্যমে একে প্রতিহত করে গনতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে সমর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পিজম পরাজিত হয়েছে। ট্রাম্প একজন অকৃতকার্য নেতা আর এর সাথে তার পর্যায়ক্রমিক মিথ্যা ও গুজবি কর্মকান্ডের সহায়তাকারি মেরুদন্ডহীন কিছু রিপাবলিকান নেতা। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট বলেছেন, দেশপ্রেম হলো দেশের পক্ষে সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ানো, প্রেসিডেন্টে বা দলের পক্ষে নয়। জন এফ কেনেডির লিখা বই ‘ প্রোফাইল কারেজ’ এ এদের মত মেরুদন্ডহীন নেতাদের স্হান হবে না।
আমার আমেরিকান ষ্টাডিজ ও পর্যবেক্ষনে যা পেয়েছি তা হলো আমেরিকান গনতন্ত্র ও সমাজ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সময়ে সময়ে বিভিন্ন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সিভিল ওয়ার, বিভিন্ন দেশের সংগে যুদ্ধ, দু দুটো বিশ্বযুদ্ব, রাশিয়ার সংগে স্লায়ু যুদ্ধ ও সর্বশেষ নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার সংগে যুক্ত হলো ৬ জানুয়ারীর ক্যাপিটাল হিলের ঘটনা।
২০০০ সালের এমনি এক শীতের জানুয়ারীতে আমি ও আমার স্ত্রী প্রথম পদার্পন করেছিলাম নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে। কনকনে ঠান্ডা, প্রচন্ড বাতাস, রৌদ্রজ্জল দুপুরে আমার বড় ভাইয়ের গাড়ীতে করে নিউইয়র্কের লং আইসল্যান্ডের হাইওয়ে ধরে যাচ্ছিলাম, আর রাস্তার দুপাশে হাটু পরিমান বরফের স্তূপ, বিস্তীর্ণ বিরান ভূমিতে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ পাতা হীন অর্ধমৃত গাছের সারি অপলক নেত্রে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, এমন এক বৈরি আবহাওয়ার দেশে যেখানে রাস্তা ভর্তি বরফ, রক্তজমাটকরা কনকনে শীত যেখানে গাছপালাও জীবনের জন্য যুদ্ধ করছে, সেখানে আমার মত ঠান্ডা কাতর একজন মানুষ কি করে থাকব। কি করে এখানকার মানুষেরা এই বৈরি প্রকৃতির সংগে যুদ্ধ করে নিজেদের উন্নতির শিখরে নিয়ে গেল। বিকেলে চায়ের টেবিলে যখন ঠিক এটাই বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, উনি বলেছিলেন সেটা অল্প দিনেই তুমি নিজেই বুঝবে।
কিছুদিন পরই বড় ভাই যখন আমাকে সিটিতে ড্রপ করে কিছু টাকা দিয়ে বলেছিল যে, দুটি বিশ ডলারের নোট সব সময় ওয়ালেটে রাখবে, যদি কখনও কোন মাগার তোকে আটকায় তুই পুরো ওয়ালেটই ওর হাতে তুলে দিবি। যেহেতু তখন আমাকে ট্রেন আর বাসেই চলতে হত। ভয় আমার তখন আরও বেড়ে গিয়েছিল।
দীর্ঘ ছয় বছর নির্ঘুম বিনিদ্র রজনীর শহর নিউইয়র্কে কাটিয়েছি। কাজ, ক্লাস সেরে মধ্যরাতে একা একা বাসায় ফিরেছি। বিশ্ববানিজ্যের রাজধানী ও প্রানকেন্দ্র ম্যানহাটনের রাস্তায় রাত দুটো তিনটেতেও মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে সাবওয়েতে উঠেছি। কখনও ট্রেনে বসে ঘুমিয়ে পড়ে গন্তব্য মিস করে দু এক ষ্টেশন চলে গিয়ে আবার ফিরে এসেছি। কোনরকম বিপদজনক অবস্থায় পড়তে হয়নি।
২০০১ সালের ৯/১১ ইলেভেন ঘটনায়ও তেমন কোন প্রতিকূল অবস্থার মুখামুখি হতে হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট বাইডেনের নির্বাচনী ফলাফল সার্টিফিকেশনের দিন তথা ৬ জানুয়ারী ক্যাপিটাল হিল ভাংচুরও ও ভাইস প্রেসিডন্ট, স্পীকার ন্যান্সী পেলসি সহ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দকে হত্যার হুমকিতে অনেকের মতো আমিও যার পর নাই বিচলিত হয়েছি। বিষন্ন,বিচলিত ও ভীত হয়েছি একারনে নয় যে, জীবনে কখনও এধরনের ঘটনার মুখামুখি আমি হইনি বা নিজে প্রত্যক্ষ করিনি। সাম্প্রদায়িক ও মিলিটারি স্বৈরাচার পীড়িত বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান হিসেবে, অন্যতম বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র হিসাবে, একজন ছাত্র রাজনৈতিক কর্মি হিসেবে, প্রত্যন্ত অঞ্চল তথা অজ পাড়া গ্রাম, থানা, জেলা ও রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা হিসেবেও এধরনের ভাংচুর, মারামারি, হুমকি, ছিনতাই, অপহরণ, পিটিয়ে গুলি করে হত্যা, সবকিছুই স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি, করতে হয়েছে। অতীতের ঐসব ঘটনাবলিতে আমি আদৌ বিচলিত হইনি, বিচলিত হয়েছি ক্যাপিটাল হিল আক্রমণের ঘটনায়। ঢাকা শহরে আমি নিজে অপহৃত হয়ে যতটুকু না বিচলিত ও আশ্চর্য হয়েছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি বিচলিত হয়েছি এই ঘটনায়।বাংলাদেশের তৎকালীন সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্হায় ওসব স্বাভাবিক এবং প্রচলিত ছিল। ক্যাপিটাল হিলের সাম্প্রতিক ঘটনা আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক শিষ্টাচারের শুধু বাইরেই নয় বরং তা ধ্বংসকারী বলা যায়। এই অবস্থার সৃষ্টি একদিনে হয়নি।
ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয়ের কথা চিন্তা করেই প্রথম থেকেই তিনি নির্বাচনে কারচুপি হবে এমন কথা প্রচার করে আসছিলেন। আমেরিকার দুইশত বছরের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতাহীন কোন প্রেসিডেন্টেরই নিজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কারচুপির কোন অভিযোগ আনার কোন উদাহরণ নেই। সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে নির্বাচনের মাত্র চল্লিশ দিন আগে অভূতপূর্ব ভাবে সু্প্রিম কোর্টে নিজ মতাদর্শের নিজ দলের বিচারক নিয়োগ সম্পন্ন করেন। ট্রাম্প নিজেই সোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সভায় প্রচার করেছেন যে এবারের নির্বাচন কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে। ভেবেছিলেন তিনি কোর্টের রায়েই শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজে থেকে যাবেন। কিন্ত সে আশায় গুড়েবালি।
এবারের মামলাটিকে তিনি এবং তার দলের অধিকাংশরাই অনেক বড় সড় একটি মামলা বা বিষয় বলে প্রচার করেছিল। ট্রাম্প নিজে সহ ১২৬ জন রিপাবলিকান হাউজ মেম্বার ১৭টি অংগরাজ্যের এটর্নি জেনারেলও এই মামলার পক্ষ হয়েছিল। সিনেট মেজরিটি লিডার মিকমেককনাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ট্রাম্প কর্তৃক নাম দেয়া সিনেটর লাইয়িং লায়ন টেড মানে টেড ক্রুজসহ অনেকেই এ মামলায় ছিল প্রচন্ড রকম আশাবাদী। উল্লখ্য যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্হাপনার সকল আইনানুগ কতৃত্বই অংগরাজ্যের হাতে থাকায় অংগরাজ্যের অনেক রিপাবলিকান প্রশাসনও ট্রাম্প ও তার ভক্ত রিপাবলিকানদের অনৈতিক দাবী ও কর্মের সাথে একমত হতে রাজি হয়নি। এটিই আমেরিকার ফাদার অব দি নেশানদের রাজনৈতিক আদর্শ। এবং একই আদর্শে অধিকাংশ আমেরিকান এখনও বিশ্বাসী।
শুধু ক্ষমাই না ভুল বা পরাজয় স্বীকার করে নেয়ারও একটা মহত্ব লাগে, মন লাগে, লাগে দর্শন ও আদর্শিক শিক্ষা যেটা ট্রাম্পের মতো অনেকেরই থাকে না। ট্রাম্পের নিজের উকিল প্রায় একবছর আগেই কংগ্রেসের শুনানিতে শপথ নিয়ে বলেছে যে, ট্রাম্প এমনই একজন মানুষ যিনি কিনা পরাজয় মেনে নিবে না। আজ সে কথাই সত্যি হলো। তবে যেতে তাকে হবেই। জানুয়ারির বিশ তারিখে জো বাইডেন শপথ নিবেন সর্বচেয়ে বেশি বয়স্ক প্রেসিডন্ট হিসেবে।. নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মিথ্যা প্রচারনা এবং অযৌক্তিক সব কর্মকান্ডকে জায়েজ করতে সবমিথ্যাকে মেনে নিয়েছে তার দল রিপাবলিকান পার্টিও। মিথ্যা মিথ্যা এবং মিথ্যা, ক্ষমতা ধরে রাখা, ক্ষমতায় যেভাবেই হোক টিকে থাকা, জরুরি আইন জারি করে হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে যা ইচ্ছা তাই করা তা অব্যাহত রাখা এবং তার এই সকল অপ কর্মের সাথী ও সমর্থক ছিল রিপাবলিকান নেতারা। ক্যাপিটাল হিল এটাকে যখন ঐসব নেতাদের জীবন হুমকির সন্মুখীন হলো তখন কিছু কিছু নেতা তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য হলো, তবে তা অনেক বিলম্বে।
২০১৬ সালের প্রাইমারিতে সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে চলে আসে ফাঁকিবাজ, ধান্দাবাজ অসৎ ব্যাবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেটর টেড ক্রুজ ( ট্রাম্প যাকে ডাকত লাইয়িং টেড ) ও মার্কো রুবিও ( ফ্লোরিডার সিনেটর, ট্রাম্প যাকে বলত লিটল মার্কো) সেদিন বিড়াল ছানার মতো হেরে গিয়ে এখন ট্রাম্পের পোষ্য পুত্র হয়ে তার সকল অপকর্মের সমর্থনকারিতে পরিনত হয়েছে।
বিলনিয়ারদের ট্যাক্স কাট দেয়া, ওবামা কেয়ার বা ওবামার স্বাস্থ্যনীতি বাতিল, পরিবেশ রক্ষার আইন বাতিল, মানবাধিকার ও ইমিগ্রেন্ট বিরোধি আইন প্রনয়ন, নেটো ও ওয়াল্ড হেল্থ্ ওরগানাইজেশনসহ (WHO)জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন সংস্থা থেকে বেরিয়ে আসা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রন আইন প্রনয়ন না করা, ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে সর্বপ্রকার রেসিজমকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়াসহ ট্রাম্পের সকল অনৈতিক, অমানবিক কর্মকান্ডকে তার দল ও দলের অধিকাংশ নেতারাই সমর্থন দিয়ে এসেছে পুরো চারটি বছর। AMERICA IS IN UNDER ATTACK BY DOMESTIC TERRORIST .
নাইন ইলেভেনে আমেরিকা টেররিষ্টদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল, আর এবার দেখল কিভাবে তার নিজেদের (ডমিষ্টিক) টেররিষ্ট দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। নাইন ইলেভেনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অর্থনীতি এবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো আমেরিকার গনতন্ত্র, রাজনীতি ও বিশ্বব্যাপী তার ভাবমূর্তি । ক্ষতিগ্রস্ত হলো অন্য দেশের গনতন্ত্রের তদারকি করার আদর্শিক অবস্থান ও অধিকার। নাইন ইলেভেন এমন একটা সময় ঘটেছিল যখন আমেরিকার অর্থনীতি ছিল উল্কার গতিতে উর্ধমুখী। নিউইযর্ক আমেরিকার অর্ধশত শহর যখন রাতেও ঘুমুতে যেত না, সারা রাত জেগে থাকত।
এবারের ডমিষ্টিক টেররিষ্টরা যখন গনতন্ত্র, স্পীকার, ভাইস প্রেসিডন্ট ও সিনেটের লিডারদের অপহরন বা হত্যার জন্যে ক্যাপিটাল হিলে আক্রমণ করল তখন করোনায় মরছে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার মানুষ । যখন বাইডেন প্রায় ছয় মিলিয়ন পপুলার ভোট বেশি পেয়ে ৩০৬ কলেজ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলো তখনও অধিকাংশ রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পকে তার মিথ্যাকে সাপোর্ট করল, এই দায় রিপাবলিকালদের বইতে হবে আরও দীর্ঘ দিন।
“রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়”। বার বার স্মরনে আসছে এই বাংলা চরণ।শুধুই কি রাজার দোষ? ভলগা থেকে বুড়িগঙ্গা, মিসিসিপি থেকে ব্রম্মপুত্র, কানাডা থেকে অষ্ট্রিয়া, প্যারিস থেকে ঢাকা, রাশিয়া হয়ে চীন সকলের দৃষ্টিই এখন আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসির দিকে। ক্যাপিটাল হিলের ধ্বংসযজ্ঞকে কেউ বলছেন গনতন্ত্রের পতন, কেউ বলছেন বিশ্বে আমেরিকার গনতান্ত্রিক ছবক দানের পরিসমাপ্তি। কেউ বলছেন অসভ্যতার আসল চিরায়ত বহি:প্রকাশ। কেউ বলছেন আল্লার গজব। সব কথার উত্তর এক লিখায় সম্ভব নয়, সঠিক আর বেঠিক যাই হোক। তবে আলোচনা তো করাই যায়। আমেরিকান প্রচলিত গনতন্ত্রের বর্তমান পর্যায় হঠাৎ করে একদিনে, এক বছরে বা একদশকে আসেনি। শত শত বছরের ঘাত, প্রতিঘাত, আন্দোলন, সংগ্রামের পাশাপাশি আইন প্রনয়ন, প্রয়োগ ও আদালতের জুডিশিয়াল রিভিউ এর ধারাবাহিকতার বর্তমানে উপনীত।অষ্টাদশ শতাব্দীর সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সর্বশেষ বি এল এম Black life Matter আন্দোলনে এসে ঠেকেছিল।
আমেরিকানরা তাদের সকল struggle কে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। “Face, fight win and follow” সূত্রে ধরে এ পর্যন্ত এসেছে। ভবিষ্যত নির্ভর করছে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বার্থকতার উপর। সিনেট ও হাউজ দু কক্ষেই ডেমক্রেটিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, মন্ত্রিপরিষদে অভিজ্ঞ বিভিন্ন শ্রেনি, পেশা ও গোত্রের নেতাদের অর্ন্তভুক্ত করা, এমনকি সর্বকালের ডাইভার্সড প্রশাসন হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। আমেরিকান phrase “ A Servant hearts” বলে একটা কথা আছে, যা কিনা মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস খ্রীষ্টান, ও ইসলাম ধর্মসহ সকল ধর্মের মূলমন্ত্র হতে উদ্ভূত। আমেরিকান নেতৃত্ব, প্রশাসন, সকল স্তরের কর্মকর্তা পেশাজীবিরা মনে করেন যে, তারা সকলেই পিপলস সারভেন্ট অর্থাৎ জনগণের চাকর। A servant heart phrase এবং এর মূল তথ্যকে সকলেই অন্তরে ধারন করে ও তার চর্চাও করে। বাইডেন তা আরও শক্ত ও ব্যাপক ভাবে প্রয়োগ করবেন। America is United , United America is strong and that’s why United States of America."

ভারতের প্রতি ভালোবাসা

ভারতের প্রতি ভালোবাসা

ভ্যাকসিন নিয়ে ভয় ও অজ্ঞতাকে না বলুন

ভ্যাকসিন নিয়ে ভয় ও অজ্ঞতাকে না বলুন

আমার ভাষা সফটওয়্যার

আমার ভাষা সফটওয়্যার

টিকা নেয়ার অভিজ্ঞতা

টিকা নেয়ার অভিজ্ঞতা

হাল ছেড়ো না বন্ধু

হাল ছেড়ো না বন্ধু

মৃত্যুও ভালোবাসায় ছেদ টানতে পারে না

মৃত্যুও ভালোবাসায় ছেদ টানতে পারে না

Islami Bank Ad

জনপ্রিয়

কানাডায় ইএসএল টিচারদের সুযোগ ও সম্ভাবনা

কানাডায় ইএসএল টিচারদের সুযোগ ও সম্ভাবনা

তরুণ প্রজন্মের কেন দেশত্যাগের প্রতি আগ্রহ বেশি

তরুণ প্রজন্মের কেন দেশত্যাগের প্রতি আগ্রহ বেশি

মাহি,ফারিয়া ও পূজা চেরির পর জাজের নতুন মুখ কে?

মাহি,ফারিয়া ও পূজা চেরির পর জাজের নতুন মুখ কে?

স্পষ্টভাষী ইব্রাহিম খালেদ আমাদের মনে জাগরূক থাকবেন

স্পষ্টভাষী ইব্রাহিম খালেদ আমাদের মনে জাগরূক থাকবেন

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিস টিপু অস্ত্রসহ আটক

জয়কে নিয়ে সিঙ্গাইরে হ্যাটট্রিক জয় চায় বিএনপি

জয়কে নিয়ে সিঙ্গাইরে হ্যাটট্রিক জয় চায় বিএনপি

চবিতে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে সমাবেশ, সিদ্ধান্ত সোমবার

চবিতে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে সমাবেশ, সিদ্ধান্ত সোমবার

রাবিতে ৫ ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের ঘোষণা

রাবিতে ৫ ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনের ঘোষণা