সব
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

তবু বিএনপি কেন নির্বাচন করে

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০১
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও দেশটিতে এখনো ভোটের অধিকার আদায় করতে রক্তক্ষয়ের সেই নির্মম ও অসভ্য পন্থাই রয়ে গেছে। শুধু রয়ে গেছে বললে ভুল হবে, তা আরো প্রথিত হয়েছে। ভোটের অধিকার আদায়ের সেই পথে বিএনপি কেন সফল হলো না, সে সমালোচনাও অনেকে তোলেন। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, সেই শাসকের সমালোচনা না করে তারা সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেন বিএনপিকেই। তারা একবারও বলেন না, এই দেশে কেন এখনো ভোটের অধিকার আদায় করতে রক্ত ঝরাতে হবে?

বাংলাদেশে কি নির্বাচন আছে? নির্বাচনের নামে যেটা হচ্ছে সেটাকে কি আদৌ নির্বাচন বলা যায়? নাকি ‘নির্বাচন নির্বাচন’ খেলা? এই প্রশ্নটা করেন অনেকেই। আর সে জন্যই আরও বেশি যে প্রশ্নটি ইদানীং সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী পর্যন্ত করেন তা হলো, এই রকম খেলো নির্বাচনে বিএনপি কেন অংশ নিচ্ছে?

বিএনপির সেই এক জবাব, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করলেও সেই প্রায় বিনাভোটের সরকারের অধীনেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে বিএনপি। আর ২০১৮ সালের চরম বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পরেও প্রায় সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। যে নির্বাচনটিকে দেশের সাধারণ ভোটাররা পর্যন্ত ঠাট্টা করে বলেন, ‘তাহাজ্জুতি নির্বাচন’। বিশ্বখ্যাত দ্য ইকোনমিস্ট যে নির্বাচনটাকে তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছিল `transparently fraudulent election' বা স্পষ্ট জালিয়াতির নির্বাচন (Obituary of democracy: Bangladesh)। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে যে নির্বাচনকে প্রহসন বলে বর্ণনা করেছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি যে ইলেকশনে ৬৬ শতাংশ কেন্দ্রে আগের রাতেই ভোট হয়ে যাওয়া এবং ৬০ শতাংশ কেন্দ্রে বুথ দখল করে একচেটিয়া ভোট দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে। সেই নির্বাচনটির মাধ্যমে গঠিত সরকারের আমলে সেই একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করছে ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর নামে লক্ষাধিক মামলায় জর্জরিত বিএনপি। এমন সুবোধ একটি রাজনৈতিক দল তো সবার ধন্যবাদ পাওয়ার কথা। কিন্তু দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সরকারি দল, তাদের অনুগত দলগুলো ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর তো বটেই, এমনকি তার দলের নেতা-কর্মীদের কাছে পর্যন্ত প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।

গত প্রায় এক যুগে বাংলাদেশে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে যে নির্বাচন হচ্ছে, সেটি যে দখলদারির নির্বাচন, সেটা দেশ-বিদেশের অনেকেই বলছেন। ২০০৮ সালের পরে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট ছাড়া অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বলেছেন- এমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে এত দিন রাখঢাক রেখে গোপনে, রাতে ভোট নেয়ার চেষ্টা থাকলেও এখন সে তরিকা থেকেও কেউ কেউ সরে এসেছেন। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তো কোনো রকম রাখঢাক না রেখে সবাইকে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারার জন্য বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভোট দিতে হবে। ভয়ের কোনো ব্যাপার না, কে দিচ্ছে এটা কোনো ব্যাপার না। আমি যদি ওপেন সিল মেরে দিই, তাহলে কেউ কারো কিছু দেখার নাই। সবাই নৌকায় সিল মেরে নেন, কোনো সমস্যা নাই। যেখানে সবাই একতরফা ভোট দেবে, সেখানে কেন আপনি সন্দেহের মধ্যে থাকবেন। আমাকে কেন সবাই সন্দেহ করবে (প্রথম আলো ডটকম, ১০ জানুয়ারি, ২০২১)।’

সরকারি দলের এই আঞ্চলিক নেতা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের নির্বাচনী স্টাইল না জানলেও তার সরকারের গত এক দশকের নির্বাচনী স্টাইলটা তো জানেন। তাই হয়তো এত দিন গোপনে, আধাগোপনে বা প্রকাশ্যে যা ঘটে আসছে, সেটাই তিনি পূর্ণ প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন।

এমন একতরফা নির্বাচনে জেনেশুনেই তো বিএনপি যাচ্ছে। শুধু যাচ্ছেই না, প্রার্থী হতে না পেরে হাঙ্গামা করছে, দলের মহাসচিবের বাসায় পর্যন্ত ঢিল ছুড়ছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা সংসদে যোগ দেবেন না বলে দল থেকে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে দলটির মাত্র হাফ ডজন এমপি শপথ নেন। কিন্তু শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আবার উপনির্বাচনে নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছে দলটি।  

কিন্তু সেসব নির্বাচনে অংশ নিয়ে যে ফলাফল তুলতে পারছে, তা আরও হতাশাজনক। ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর ৭৫ হাজার ৮২০ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার ৩৬৯ ভোট। ঢাক-৫ আসনের উপনির্বাচনেও ধানের শীষ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ৯২৬। পাবনা-৪ আসনে নৌকার প্রায় আড়াই লাখের বিপরীতে ধানের শীষের ভোট মাত্র সাড়ে ৫ হাজার। নওগাঁ-৬ আসনেও চিত্র অভিন্ন। সেখানে নৌকার লক্ষাধিক ভোটের বিপরীতে ধানের শীষের ভোট সাড়ে ৪ হাজার। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের ফলাফল আরও ভয়াবহ। সেখানে নৌকা প্রার্থীর ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৫ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষের ভোট মাত্র ৪৬৮!

এই সব নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য যত জোর প্রচেষ্টা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা যায়, প্রার্থী হয়ে যাওয়ার পরে প্রার্থীদের সেই তোড়জোড় দেখা যায় কমই। অনেকটা নীরবে প্রায় নির্বিঘ্নেই ভরে যায় নৌকার বাক্স। তেমন কোনো প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে নৌকা প্রার্থীর সংঘর্ষে বিভিন্ন নির্বাচনে যত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা ধানের শীষ সমর্থকদের সঙ্গে ঘটেনি। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চাপে নির্বাচনের পরে এলাকায় থাকার স্বার্থে বেশিভাগ এলাকায় আগেভাগেই হাত গুটিয়ে নেয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ফলে বগুড়ার একটি আসন ছাড়া আর কোথাও তেমনভাবে মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপি।   

সাম্প্রতিক কালে শুরু হওয়া পৌরসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ২৩টি পৌরসভার মধ্যে ১২টিতেই জামানত হারিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। এর আগে চরম বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষের অন্তত ১৬১ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছিলেন।   

এত কিছুর পরেও সব জেনে-বুঝেও কেন নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আর কত দিন এই নির্বাচন নাটকে অভিনয় করবে দলটি। এসব প্রশ্নই করছেন অনেকে। আর এটার সুযোগ নিয়েই সরকারি দলের লোকজন ও তাদের অনুগত সুবিধাভোগী সমর্থকগোষ্ঠী বলছে, বিএনপি নির্বাচনে সিরিয়াস নয়। তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ জালিয়াতির বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো কর্মী বাহিনী বিএনপির খুব একটা নেই বলেই অনেকের ধারণা। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের লোকজন বিএনপির নেতা-কর্মীদের শাসিয়ে জানান দেয় যে এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জিতলেও ক্ষমতায় থাকছে আওয়ামী লীগই। ফলে তারা কোনো রকম নির্বাচনী কাজে অংশ নিলে নির্বাচনের পরে জেল অথবা এলাকাছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা অবধারিত হয়ে যায়। এমনিতেই ওই সব নেতা-কর্মীর নামে নামী-বেনামি মামলার অভাব নেই। অনেকে আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাই তারা আর নতুন করে কোনো ঝুঁকি নিতে ভয় পান। ফলে ভোট জালিয়াতির প্রতিরোধ গড়ে তোলা তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় কেন্দ্রে এজেন্ট পর্যন্ত মেলে না ধানের শীষ প্রার্থীর। হাতে গোনা যে দুয়েকটিতে ধানের শীষের প্রার্থী জিতে আসে, তার বেশিভাগ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সরকারি দলের প্রভাবশালী একাংশের সিগন্যালে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ থাকে প্রশাসন। সে সুযোগে বিএনপি নির্বাচনী মাঠে থাকার সুযোগ পায়। 

তাহলে বিএনপি কী করতে পারে? দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য খুব বেশি অপশন খোলা নেই। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করতে হবে অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে। সে ক্ষেত্রে শুধু আন্দোলন করলেই হবে না, বাংলাদেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার গতিপথ নির্ধারণে যেসব শক্তি প্রচ্ছন্ন ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখে, তাদের সমর্থনও থাকতে হবে। কিন্তু তা করার উদ্যোগ নিয়ে এর আগে একাধিকবার সফল হতে না পেরে বিএনপি অধিকতর নিপীড়নের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিএনপি যত দিন তা করার সক্ষমতা অর্জন করতে না পারবে, তত দিন দলকে আন্দোলনের উপযোগী করে  গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেয়া ছাড়া আর কোনো পথ আছে কি? এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন বয়কট করলে দলটি জনগণের কাছে যাওয়ার সামান্য যে সুযোগটুকু আছে, তাও হারাবে কি না, সেটাও ভাবতে হবে।  

প্রথম ধাপের পৌর নির্বাচনের পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনই হয়নি, এটার আবার মূল্যায়ন কিসের। নির্বাচন কমিশনটাই ভুয়া। তবে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনে অনিয়ম হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক নির্বাচনে জালিয়াতিতে সহযোগিতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে শাস্তির আওতায় আনতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন। 

তবে আসল কথাটা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এমপিরা পালানোর জন্য দরজা খুঁজে পাবেন না’। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের অনুগত নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন তো সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য দরজা খুলে বসে নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে হবে। বাংলাদেশে কে কবে ক্ষমতার চেয়ারে বসে নিজে থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়েছে? স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও দেশটিতে এখনো ভোটের অধিকার আদায় করতে রক্তক্ষয়ের সেই নির্মম ও অসভ্য পন্থাই রয়ে গেছে। শুধু রয়ে গেছে বললে ভুল হবে, তা আরো প্রথিত হয়েছে। ভোটের অধিকার আদায়ের সেই পথে বিএনপি কেন সফল হলো না, সে সমালোচনাও অনেকে তোলেন। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, সেই শাসকের সমালোচনা না করে তারা সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করেন বিএনপিকেই। তারা একবারও বলেন না, এই দেশে কেন এখনো ভোটের অধিকার আদায় করতে রক্ত ঝরাতে হবে?

 

লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট

ই-মেইল : [email protected]

সারাক্ষণ মতামতের বৈচিত্র্যে বিশ্বাস করে। এই লেখার বিষয়ে কারো যদি কোন ভিন্নমত থাকে তাহলে অনূর্ধ্ব ৪০০ শব্দের মধ্যে লিখে পাঠান আমাদের কাছে। সারাক্ষণ আপনার ভিন্নমত সাদরে গ্রহণ করবে। আপনার ভিন্নমত প্রকাশ হবে পাঠকের অভিমত কলামে। সঙ্গে আপনার নাম, সংক্ষিপ্ত পরিচয়, ছবি ও ফোন নম্বর পাঠাবেন, যা আপনার লেখার সঙ্গে প্রকাশ হবে। ভিন্নমত পাঠানোর ই-মেইল : ‍[email protected]
মতামত বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : ‍[email protected]
বিএনপি অবশেষে ড্রামতত্ত্ব সামনে আনতে চাইছে
মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বিএনপি অবশেষে ড্রামতত্ত্ব সামনে আনতে চাইছে

কতটা এগিয়েছে বাংলা ভাষা? 
শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন

কতটা এগিয়েছে বাংলা ভাষা? 

মেজর জিয়া ও মুক্তিযোদ্ধাদের মান-সম্মান
শাহ মো. জিয়াউদ্দিন

মেজর জিয়া ও মুক্তিযোদ্ধাদের মান-সম্মান