সব
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
 

কোলন শহরের চকলেট মিউজিয়াম

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:০০
জাদুঘরে যাওয়ার জন্যও আছে বিশেষ এক গাড়ি। চকলেট এক্সপ্রেস নামের একটি মিনি (ছোট) ট্রেন চলাচল করে রোজই, এটি কোলন ক্যাথেড্রালের (কোলন ক্যাথেড্রাল হলো শহরটির খুব বিখ্যাত গির্জা) দক্ষিণ দিক দিয়ে সাধারণত যাওয়া-আসা করে । যার ফলে ট্রেনে চেপে মানুষের শহর দেখার ইচ্ছাও পূরণ হয়ে যায় একই সঙ্গে

মজার মজার চকলেট

ছোট্ট বন্ধুরা, চকলেট খেতে ভালোবাসে না এমন কেউ কি থাকতে পারে বলো তো? ছোটদের সবচেয়ে পছন্দের খাবারই হচ্ছে চকলেট, নাম শুনেই জিভে (জিহ্বা) পানি চলে আসার দশা; এর মতো মজার খাবার কি আর আছে! কেমন হতো বলো তো যদি এমন কোনো জায়গা থাকত, যেখানে শুধু চকলেট আর চকলেট, ঝরনার পানির মতো সবেমাত্র তৈরি গরম চকলেট গড়িয়ে পড়ছে, নানান স্বাদের কত কত চকলেট; আহা, দেখেই চোখ জুড়িয়ে যেত নিশ্চয়ই!

আমার কথা শুনে সবার আফসোস হচ্ছে, তাই না! ইশ, যদি সত্যিই এমন কোনো জায়গা থাকত! তবে শোন, ইতালি, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডসহ পৃথিবীর অনেক দেশেরই মজার মজার সব চকলেট তৈরির জন্য আছে সুনাম। তবে তোমাদের স্বপ্নের সেই চকলেট মিউজিয়াম বা জাদুঘরটি হচ্ছে জার্মানিতে। জাদুঘর শব্দটির সঙ্গে তো তোমাদের বেশ চেনাজানা, ওই যে যেখানে অনেক অনেক পুরোনো দিনের নানান জিনিস জমা করে রাখা হয় মানুষের দেখার জন্য, সেসব বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য। একেক বিষয়ের ওপর গড়ে তোলা হয় একেক রকমের জাদুঘর, তেমনি জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের কোলন শহরে গড়ে তোলা হয়েছে চকলেটের এই জাদুঘরটি।

বাইরে থেকে যেমন দেখতে চকলেটের জাদুঘরটি (রাইন নদী বন্দরে)

চকলেট জাদুঘরটি তৈরি করেছে হ্যান্স ইমহফ নামের এক চকলেট ব্যবসায়ী। ব্যবসার খাতিরে ১৯৭২ সালে তিনি শুরু করেন একটা চকলেটের কারখানা, যদিও তার অনেক দিন ধরেই মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন ছিল একটি চকলেটের জাদুঘর তৈরির; যেখানে অবিরত একটি ফোয়ারা থেকে পানির মতোই গড়িয়ে পড়তে থাকবে তরল চকলেট। হ্যান্স ইমহফের সে স্বপ্নটি সত্যি হয় ১৯৯৩ সালের ৩১ অক্টোবর। দোতলা ভবনের চকলেটের জাদুঘরটি তৈরি করতে লেগেছিল প্রায় ১৩ মাস, তবে এ সময়টুকু কেবলই ভবনের রূপ লাভের; স্বপ্ন পূরণ হতে কত সময় লাগল, সেটি ধরলে তো অনেক বছরের হিসাব। জাদুঘরের নকশাটি এমন যা কিনা দেখলেই একটা বড় নৌকা বা জাহাজের ডেকের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর তাই এটি গড়েও তোলা হয়েছে রাইন নদীবন্দরের উপদ্বীপে। হ্যান্স ইমহফের তৈরি জাদুঘরটি যে শুধু তার একারই বিজয় এমন কিন্তু নয়, জার্মানির জাদুঘরের ইতিহাসেরও বিজয় হয়ে উঠেছে এটি। যার প্রমাণ মেলে বছরে ছয় লাখের বেশি চকলেটপ্রেমীর এই জাদুঘরটিতে বেড়াতে আসার হিসাব দেখলেই।

জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ হলো চকলেটের ফোয়ারাটি- এ কথা সবারই বোঝা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই। চোখের সামনে ৩ মিটার উঁচু একটি ফোয়ারা থেকে গরম আর তরতাজা চকলেট ঝরে পড়ছে তো পড়ছেই, থামার কোনো নাম নেই; কেমন লাগবে তোমাদের? চকলেট জাদুঘরের সে ফোয়ারাটিও এমনই, আর এতে দিনে প্রায় ২০০ কেজির মতো তরল চকলেট ফোয়ারা থেকে বের হয়ে ঝরে পড়তে থাকে ফোয়ারার নিচে রাখা থালার ওপর; হ্যান্স ইমহফের স্বপ্ন যেন সত্যি হলো এর মধ্য দিয়ে।

চকলেটের ফোয়ারা

চকলেটের ফোয়ারা ছাড়াও কিন্তু আরো অনেক কিছুই জানার ও দেখার আছে জাদুঘরে। এটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে গেলেই মনে হবে পুরোনো মায়া সভ্যতা, অ্যাজটেক সভ্যতাসহ আদি আমেরিকা যুগে পৌঁছে গেছি আমরা, ঘুরে ঘুরে দেখছি সে সময়ের চকলেট তৈরির সব কায়দাকানুন; আর সবশেষে আমরা ফিরে আসব আধুনিক চকলেটের যুগে। সব মিলিয়ে যা কিনা ছড়িয়ে আছে পুরো চার হাজার স্কয়ার মিটার (প্রায় ০.৯৮৮ একর) জায়গাজুড়ে। জানা যাবে পাঁচ হাজার বছর ধরে চলে আসা কোকোয়া গাছ ও তার বীজের ইতিহাসও, কোকোয়া গাছের বীজ দিয়েই কিনা আসলে বানানো হয় চকলেট; এর ইতিহাস না জানলে কি আর চলে! এমনকি চাইলে ফরমাশ মতো (অর্ডার) চকলেট বানিয়েও নিতে পারবে তোমরা, ঠিক যে রকম চকলেট খেতে চাইবে, তোমার চোখের সামনেই বানিয়ে দেয়া হবে সে রকম চকলেট; কিংবা চকলেট বানিয়ে তোমার সামনে তা হাজির করা হবে ডেলিভারি (বিলি) ভ্যান বা বাইকে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ছোট-বড় এক লাখের বেশি জিনিসে ভরিয়ে তোলা হয়েছে জাদুঘরটি, সব কি আর বলে শেষ করা যায়! জাদুঘরে যাওয়ার জন্যও আছে বিশেষ এক গাড়ি। চকলেট এক্সপ্রেস নামের একটি মিনি (ছোট) ট্রেন চলাচল করে রোজই, এটি কোলন ক্যাথেড্রালের (কোলন ক্যাথেড্রাল হলো শহরটির খুব বিখ্যাত গির্জা) দক্ষিণ দিক দিয়ে সাধারণত যাওয়া-আসা করে । যার ফলে ট্রেনে চেপে মানুষের শহর দেখার ইচ্ছাও পূরণ হয়ে যায় একই সঙ্গে।  

চকলেট এক্সপ্রেস মিনি ট্রেন

২০০৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মারা যান হ্যান্স ইমহফ। জাদুঘরটি পুরোপুরি দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে তখন তার স্ত্রী গেরবার্গ ক্লারা ইমহফের কাঁধে। এর আগ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে মিলেই জাদুঘরের বিকাশে কাজ করে এসেছেন তিনি; তার সময়ে জাদুঘরের বিকাশ হয়েছে আরো বেশি- এ কথা না বললেই নয়। এমনকি ১৯৯২ সালে জাদুঘরটির জায়গা যাচাই-বাছাই করার কাজটিও তারই। ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্বামীর স্বপ্নের জাদুঘরটি আগলে রেখেছিলেন গেরবার্গ ক্লারা ইমহফ। কিন্তু সময় ও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বদল তো আসবেই, সে মতোই ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে জাদুঘরের দায়িত্ব নেন হ্যান্স ইমহফের মেয়ে ও তার স্বামী। সবশেষে ২০১৭ সালের কথা, অপর মেয়ে সুজান ইমহফ তার মায়ের কাছ থেকে পুরোপুরি দায়িত্ব বুঝে নেন অলাভজনক ইমহফ ফাউন্ডেশনের (সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান); এরপর থেকে বাবার স্বপ্নের চকলেট জাদুঘরের সবকিছু চলছে তার হাত ধরেই।

লেখক: শিক্ষার্থী, বিএসএস (ফাইনাল ইয়ার), নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম

কিডজ ওয়ার্ল্ড বিভাগে লেখা ও আঁকা ছবি পাঠানোর ঠিকানা: ‍[email protected]
আমার সেরা বন্ধু বই

আমার সেরা বন্ধু বই

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্লসম ফুলের বৃত্ত!

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্লসম ফুলের বৃত্ত!

ছিমছাম শোবার ঘর

ছিমছাম শোবার ঘর

ধনেপাতার ৫ পুষ্টিগুণ

ধনেপাতার ৫ পুষ্টিগুণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

 গাছের নাম থেকে যে দেশের নামকরণ

মুকেশ আম্বানির বাড়ির সামনে বিস্ফোরক: দায় নিল জইশ-উল-হিন্দ

মুকেশ আম্বানির বাড়ির সামনে বিস্ফোরক: দায় নিল জইশ-উল-হিন্দ

আ মরি বাংলা ভাষা

আ মরি বাংলা ভাষা

কে বলেছে ছবির বই শুধু বাচ্চাদের জন্য?

কে বলেছে ছবির বই শুধু বাচ্চাদের জন্য?

ট্রেনে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মজার ঘটনা

ট্রেনে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মজার ঘটনা