সব
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭
AD

ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স (পর্ব -২)

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০১
ভুল করে ভুল পোশাকে এ ঘরে চলে আসেনি তো মেয়েটা! ইতিউতি আশপাশে তাকাচ্ছে। আবরারের মনে হলো মেয়েটা যেন হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকাল। সর্বনাশ! মেয়েটা বুঝতে পারেনি তো যে আবরার আড়চোখে ওকে ঘুরেফিরে দেখছিল! বুঝতে পেরে গেলে মহাবিপদ।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এর আগে কখনোই আসা হয়নি আবরার ফাহাদের। বিশাল হলরুমে ঢোকার আগে শেষরাতের শীতল বৃষ্টি শেষে ঠান্ডা হাওয়ার একটা ঝাপটা এসে লাগল গায়ে। সকালে স্বয়ং আইজিপি স্যারের ফোনকলে যখন শুনেছিল আজকে বাঘা বাঘা উচ্চপদস্থ পুলিশ, সিআইডি কর্মকর্তাদের বোর্ড মিটিংয়ে সেও আমন্ত্রিত, পেটের ভেতর থেকে পাক খেয়ে ওঠা অনুভূতি অসাড় করে দিয়েছিল ওকে কিছু সময়ের জন্য।

অর্ধচেতন-অর্ধঅচেতন অদ্ভুতুড়ে এক অনুভূতি।

জাপানের আকিতা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গাইড যখন প্রথমবার ডাবল ডক্টর বলে ডেকেছিল, তখন এ রকম একটা ভয়ংকর সুন্দর অনুভূতি হয়েছিল। কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল বৈঠকের টেবিল গোল না হয়ে কেন চৌকা হয়, এই প্রশ্ন নিজেকে ছোটবেলা থেকে করে করে ত্যক্তবিরক্ত করে দিলেও আজো উত্তরটা খুঁজে পায়নি। বিশাল আয়তকার টেবিলকে ঘিরে সারি সারি চেয়ারে পুলিশের পোশাক পরা রাশভারি অনেক মানুষ বসে আছে।

একটু সন্দিগ্ধচিত্তে এক প্রান্তের একটা চেয়ারে বসে পড়ল আবরার। এমনিতে নিজেও কম রাশভারি নয় সে। তবে নিজের ব্যক্তিত্বকে আজ এত বড় বড় উচ্চপদস্থ মানুষের ব্যক্তিত্বের বিশালত্বের ভিড়ে খর্বকায়ই মনে হচ্ছে।

আইনের অশোধিত অণুগুলোর ফাঁকফোকর দিয়ে ঘটতে থাকা অপরাধ নিয়েই যাদের নিত্যদিনের পথচলা, তাদের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা পর্বতসম হবে, এ কথা বলাই বাহুল্য।

পুরো হলরুমে একবার ভালো করে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল আবরার। ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি, আইজিপি, এসপি, এসএসপি সব উচ্চপদধারী মধ্যবয়স্কদের ভিড়ে হঠাৎ এএসপির পোশাক পরিধিত একটা মেয়েকে দেখে চোখ আটকে গেল।

পোশাকি গাম্ভীর্য কোথাও যেন ঠিক খাপ খাচ্ছে না মেয়েটার মুখের আদলের সঙ্গে। দুচোখ ভরা দুষ্টুমি, পাতলা ঠোঁটের আগায় গল্পের ফুলঝুরিরা ফুটে উঠবে উঠবে করেও যেন কোনো বদমেজাজি মহিলার চোখরাঙানির ভয়ে অনেক কষ্টে নিজেদের আটকে রেখেছে।

ভুল করে ভুল পোশাকে এ ঘরে চলে আসেনি তো মেয়েটা! ইতিউতি আশপাশে তাকাচ্ছে। আবরারের মনে হলো মেয়েটা যেন হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকাল। সর্বনাশ! মেয়েটা বুঝতে পারেনি তো যে আবরার আড়চোখে ওকে ঘুরেফিরে দেখছিল! বুঝতে পেরে গেলে মহাবিপদ। যে ব্যক্তিত্বের বড়াইয়ে ওর মাটিতে পা পড়ে না, তার ছিটেফোঁটাও তো অবশিষ্ট থাকবে না!

চোখ ফিরিয়ে মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকানোর ভান করলেও আড়চোখে মেয়েটার দিকে আরেকবার তাকাল। মেয়েটাও স্থিরদৃষ্টিতে অসংকোচে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। চোখের দৃষ্টিতে অর্থবহ কৌতূহল।

-আমরা সবাই বোধ হয় জানি, আজকের এই মিটিংয়ের প্রধান কারণ আমাদের দেশে চলমান সিরিয়াল কিলিং। অবশ্য ভিকটিম নির্বাচন এতটাই র‌্যান্ডম ছিল যে পরপর তিনটি খুনই যে এক সূত্রে বাধা, সেটা ক্রাইম সিনে ‘ÔMother Goose Treasur’ নামে নার্সারির বাচ্চাদের একটা ছড়ার বই না পাওয়া গেলে আমরা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারতাম না।

আইজিপি জালাল উদ্দিন সাহেবের কথায় দৃষ্টি বিনিময়ে ছেদ পড়ল আবরারের। নড়চড়ে বসে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল প্রজেক্টরের সামনে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে।

-আপনারা সবাই খুব ভালো করেই জানেন, খুনি কে হতে পারে, কেনই-বা খুন শেষে এভাবে ক্রাইম সিনে একটা নার্সারির বাচ্চাদের রাইমের বই ফেলে যাচ্ছেÑ তার মূলোদ্ধার কিন্তু আমরা এখনো বের করতে পারিনি।

ডিআইজি সাহেবের গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়া গেল,

-বইটি যে ইউকে বেসড পাবলিশার কোম্পানি চধৎৎধমড়হ ইড়ড়শং থেকে প্রকাশিত হয়েছে, সেটা প্রথম খুনের তদন্ত চলাকালীন পুলিশ খুঁজে বের করেছিল।

মৃদু হেসে আইজিপি জালাল সাহেব সম্মতি প্রকাশ করলেন।

-ইয়েস স্যার। বাট এগুলো ছিল ডিসট্র্যাক্টিং ক্লু। কারণ প্রথম দুটো খুনের পরে পাবলিশার কোম্পানির পেছনে আমাদের পুলিশ-সিআইডির দৌড়ঝাঁপ যে বেগার খাটনি ছিল, দ্বিতীয় খুন শেষে এই সিরিয়াল কিলিং কেসের গুরুত্বপূর্ণ ক্লুটা পাওয়ার পরে এটা পরিষ্কার হয়ে যায়। কথা না বাড়িয়ে চলুন আমরা প্রতিটা কেসের ডিটেইল প্রজেক্টরে দেখে ফেলি।

কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে রিমোটটা হাতে নিয়ে পাওয়ার অন করলেন জালাল সাহেব। কম্পমান প্রজেক্টরে ভেসে উঠল বীভৎস এক মৃতদেহ। পিনপুন নৈঃশব্দ্যের মাঝে বলে উঠলেন জালাল সাহেব,

-প্রথম ভিকটিম আব্দুল আলিম। বয়স আনুমানিক ৩৭। পেশায় একজন সিএনজিচালক। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাভারে এক পরিত্যক্ত গোরস্তানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সিএনজি বিস্ফোরণে নিহত হয়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলেই মৃত্যু ঘটেছে ভিকটিমের।

ঘটনাটিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখেছিল পুলিশ। ক্রাইম সিনের পাশে একটা অক্ষত ছড়ার বই দেখে খটকা হয়তো কিছুটা ছিল, কিন্তু কোনোভাবেই এটাকে ডেলিবারেটলি কমিটেড মার্ডার ভাবার কোনো কারণ ছিল না।

উপস্থিত সব মনোযোগী শ্রোতার দিকে লক্ষ করে খানিক মৌনতা শেষে রিমোট দিয়ে প্রজেক্টরে দ্বিতীয় ভিকটিমের ডিটেইল ফুটিয়ে তুললেন জালাল সাহেব। শুরু করলেন নিজের বক্তব্য,

-আপনারা এবার দেখতে পাচ্ছেন আমাদের দ্বিতীয় ভিকটিমকে। হারুন ইসলাম। পেশায় স্বপ্ন সুপারশপের একজন সেলসম্যান। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে, পটাশিয়াম সায়ানাইড প্রয়োগের ফলে মৃত্যু। গুলিস্তানের একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় খাওয়ার লবণে পটাশিয়াম সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ক্রাইম সিনে অ্যাজ ইউজুয়াল সেই ছড়ার বই।

হোটেলের মালিক আর কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

প্রজেক্টরে মৃতদেহের ছবিতে ভিকটিমের মুখাবয়বেই যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। পটাশিয়াম সায়ানাইডের মারণ কর্মক্ষমতা গোয়েন্দা কাহিনির বদৌলতে কমবেশি সবারই জানা। তাও মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর মুখে যেন নীল বিষ্ণু আর অতি নীল মনসার নীলিম আঁতাতের প্রয়াস-বিষের চিহ্ন! সবার দিকে একবার নজর বুলিয়ে উৎকীর্ণ কণ্ঠে বলে উঠলেন জালাল সাহেব,

-তবে এবার ছড়ার বই থেকে একটা বিচিত্র ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমাদের নবনিযুক্ত এএসপি-কাম-ডিটেকটিভ ট্রেইনি নিশাত নাহরিন অবন্তিকে দিতে হবে। ছড়ার বইয়ের প্রথমে ক্লুটা আমরা ভালোভাবে ধরতে না পারলেও অবন্তি কিন্তু ঠিকই বইয়ের খালি পৃষ্ঠায় ‘কোবাল্ট ক্লোরাইড’-এর ইনভিজিবল ইংক দিয়ে লেখা শব্দটার মর্মোদ্ধার করতে পেরেছে। প্রাউড অব ইউ ডিয়ার ইয়াং ব্লাড। তোমাদের মতো ইয়াং ট্যালেন্টেরই তো আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার।’

সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে অবন্তির দিকে তাকাল। আবরার অবাক হয়ে লক্ষ করল কিছুক্ষণ আগে যার সঙ্গে চোখে চোখে চোর-পুলিশ খেলছিল, এ তো সেই মেয়ে!

-আসলে স্যার! ইনভিজিবল ইংক অনেক ধরনের সাবসট্যান্স থেকে বানানো সম্ভব। ল্যাবে ছড়ার বইটা নিয়ে নড়াচড়া করার সময় একটা খুব চেনা গন্ধ পাচ্ছিলাম। কিসের গন্ধ ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মনে পড়ে গেল আমার ছোট ভাই আমার নতুন কেনা সাদা ড্রেসে দুষ্টুমি করে কোবাল্ট ক্লোরাইড দিয়ে পেইন্ট করেছিল। সে নাকি এই টেকনিক তার কেমিস্ট্রি ক্লাসে শিখেছে।

আমি ড্রেস আয়রন করার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ড্রেসজুড়ে নীল রঙের পেইন্টিং ফুটে উঠেছিল। সেই একই ধরনের একটা তীক্ষè গন্ধ বইয়ের শুরুতেই সাদা পৃষ্ঠাটা থেকে পেয়েছিলাম। আর তাই সাদা পৃষ্ঠায় আয়রন দিয়ে একটু হিট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু লেখা ভেসে ওঠে।

উপস্থিত অনেকেই শিস দেয়ার মতো একটা শব্দ করে উঠল। অ্যাডিশনাল ডিআইজি বলে উঠলেন,

-সিক্রেট মেসেজ কোডেড করার ক্ষেত্রে কোবাল্ট ক্লোরাইড বহুল ব্যবহৃত। কিন্তু খুনগুলোর ক্ষেত্রে আমরা এত ক্লুলেস আর মোটিভলেস ছিলাম যে খুব সাধারণ জিনিসই মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

স্যারের কথায় সায় দিয়ে বলে উঠলেন জালাল সাহেব,

-এবার প্রসঙ্গে ফেরা যাক। কোবাল্ট ক্লোরাইড দিয়ে লেখা ক্লুগুলো উদ্ধার হওয়ার পর আমরা আরো বেশি কনফিউজ হয়ে পড়লাম। প্রথম খুন, অর্থাৎ সিএনজি ড্রাইভারের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্রাইম স্পট থেকে পাওয়া ছড়ার বইয়ে আমরা ক্লু হিসেবে কোবাল্ট ক্লোরাইডে লেখা পেয়েছিলাম, জবধষ ঋঁহ আর দ্বিতীয় ক্রাইম সিন থেকে পাওয়া বইয়ের সিক্রেট মেসেজে এনকোডেড ছিল, চধষস।

 

অ্যাডিশনাল আইজিপি আনিসুর রহমান সাহেব সামান্য কুঞ্চিত ভ্রুতে সব বুঝে গিয়েছেন- এমন মুখাবয়ব করলেন,

-আমার ধারণা দ্বিতীয় ভিকটিমের পোস্টমর্টেম করার সময় হাতের তালু, অর্থাৎ ঢ়ধষস-এ ভালো করে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখলে কোনো ডেফিনিট ক্লু আমরা পেলেও পেতে পারি।

সামান্য বিরতিতে কী যেন ভাবলেন জালাল সাহেব।

-সে ক্ষেত্রে প্রথম কোড জবধষ ঋঁহ কী অর্থ বহন করতে পারে আনিস সাহেব?

-হয়তো খুন করতে খুনির খুব আনন্দ হচ্ছে, এটাই বোঝাতে চেয়েছে।

হলরুমজুড়ে হাসির একটা গুঞ্জন শোনা যেতে যেতেও ডিআইজি স্যারের গম্ভীর মুখের দিকে চেয়ে সবাই একযোগে থেমে গেল। জালাল সাহেব আবার শুরু করলেন,

-এনকোডেড মেসেজ থেকে আমরা কোনো ক্লু খুঁজে পেতে না পেতেই ঘটে গেল আরেকটা খুন।

প্রজেক্টরে ভিকটিমের আরো একবার বদল দেখতে পাওয়া গেল।

-প্রজেক্টরে এবার যাকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তার নাম স্বপ্না রয়। পেশায় একজন রিসিপশনিস্ট। ট্যুরিস্ট স্পট কক্সবাজারের হোটেল কক্স টুডেতে কাজ করতেন। বয়স আনুমানিক আটাশ। খুন হয়েছেন ঢাকায়। বোনের বাড়িতে ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন। ক্রাইম সিনে ছড়ার বইটা না পাওয়া গেলে এটাকে নিছক গ্যাস লিকেজ থেকে হওয়া দুর্ঘটনা হিসেবে দিব্যি চালিয়ে দেয়া হতো বলেই আমার ধারণা।

ইনফ্যাক্ট, বইটা ক্রাইম স্পটে খুঁজে পাওয়ার পরও আমাদের ধারণা ছিল, হয়তো খুনি বাইরে থেকে গ্যাসলাইনের কোনো লিকেজের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত ডা. আবরার ফাহাদ না থাকলে কিছুতেই বিস্ফোরণের কারণটা খুঁজে বের করা সম্ভব হতো না।’

 

সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে আবরারকে একনজর দেখার চেষ্টা করতেই সপ্রতিভ ভঙ্গিতে হাসার চেষ্টা করল আবরার। এএসপি অবন্তির সঙ্গে আরেকবার চোখাচোখি হওয়ার সম্ভাবনায় সপ্রতিভ হাসি কখন অপ্রতিভ হাসিতে বদলে গেল, টেরই পেল না। জালাল সাহেব সামান্য বাক্যবিরতি না দিয়ে বলে চলেছেন,

-আমাদের ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে বরাবরই ডাক্তারি বিদ্যার কিছু কিছু খুঁটিনাটি শেখানোর পক্ষপাতী ছিলাম আমি। হলুদে পিকরিক অ্যাসিড মিশিয়ে খুব সহজেই ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব, এটা ইন্টারের লাইফে আমাদের সবারই পড়ে আসার কথা।

খুনি তারই প্রায়োগিক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। ধন্যবাদ আমাদের আরেক ইয়াং প্রডিজি আবরার ফাহাদকে। এত সহজে ক্রাইম সিন না দেখেই জাস্ট ডেড বডি দেখে আমাদের এত বড় এভিডেনশিয়াল ক্লু দেয়ার জন্য।

আবরারের মনে হলো সে যেন রাজসভায় বসে আছে, আর মহারাজা মন্ত্রীরা তাকে পারিতোষিক দেয়ার জন্য রাজদরবারে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। জিব দিয়ে ঠোঁটটা ভিজিয়ে নিয়ে বলল,

‘স্যার, ছোটবেলা থেকে গোয়েন্দা উপন্যাসে পড়তাম ডাক্তাররা কীভাবে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজনদের বিভিন্ন কেস সলভে সাহায্য করে। আজ মনে হলো ছোটবেলার স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপ নিল।

-তুমি কেমন করে বুঝতে পারলে, বিস্ফোরক হিসেবে পিকরিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে?’

অ্যাডিশনাল ডিআইজি সাহেবের প্রশ্ন শুনে একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল আবরার। তাবৎ বাঘা বাঘা লোক এভাবে আসরের মধ্যমণি করে তুলবে জানলে আয়নার সামনে কয়েকবার উত্তরগুলো ট্রায়াল দিয়ে আসলে হতো! একটু ভেবে গুছিয়ে নিল উত্তর,

‘আসলে স্যার, ক্রাইম সিনের কিছু ছবিতে বিভিন্ন মসলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখে আমার ধারণা হয়েছিল যে সম্ভবত পিকরিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, পিকরিক অ্যাসিড দেখতে হলুদ রঙের। তার ওপর আবার পাউডার ফর্মে থাকে।

ডেডবডি দেখে ধারণা হয়েছিল, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পোস্টমর্টেম ফাইন্ডিংস আরো বেশি স্ক্যাটারড হওয়ার কথা! পিকরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে মুখটা ঝলসে যাওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি। ক্রাইম স্পটে আই মিন রান্নাঘরে মসলা ছড়িয়ে থাকার কথা শুনেই বেসিক্যালি আমার পিকরিক অ্যাসিডের কথা প্রথম মাথায় এসেছিল।’

এতক্ষণ ধরে চুপচাপ সবার আলোচনা শুনে চলেছেন এসএসপি মাহফুজ মুরসালিন সাহেব। স্বভাবে বেশ মৃদুভাষী হলেও এবার ফাঁকতালে বলে উঠলেন,

-সবই তো বুঝলাম। কিন্তু খুনি ক্রাইম স্পটগুলোতে সম্ভাব্য কী উপায়ে পৌঁছাত বলে আপনাদের ধারণা? কোনো ছদ্মবেশ নিয়ে?

-আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নোট করেছেন মাহফুজ সাহেব।

আইজিপি জালাল সাহেবের ত্বরিত উত্তর।

-আসলে প্রথম কেসে সিএনজি বিস্ফোরিত হয় সাভারের পরিত্যক্ত এক গোরস্তানের পাশে। জানা গেছে, ঘটনার দিন ড্রাইভার তার সিএনজিটা সার্ভিসিংয়ের জন্য বাড্ডার এক ‘গ্যাস ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশনে’ দিয়েছিল। সেখান থেকে সাভারে প্যাসেঞ্জার নামিয়ে ফেরার পথেই বিস্ফোরণ ঘটে।

-আমার ধারণা, গ্যাসলাইনে কোনো পরিবর্তন খুনি সিএনজি স্টেশনেই করেছে।

‘একজ্যাক্টলি আনিসুর সাহেব।’

গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন জালাল সাহেব।

-আমরা তৃতীয় খুনের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। এখানে ক্রাইম সিনে পাওয়া রাইমের বইতে কোবাল্ট ক্লোরাইডের গুপ্ত অক্ষরে লেখা ছিল ঝপযড়ষধৎ

উপস্থিত সবার চোখে অবাক বিস্ময়।

-আমি তো কোনো ক্লুর আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না। প্রথম খুনের পরে ক্লু রিয়েল ফান মানে সত্যিকারের মজা। দ্বিতীয় খুনের পর খুনি ক্লু ছেড়ে গেল পাম, অর্থাৎ হাতের তালু। তৃতীয় খুন শেষে ক্লু স্কলার, অর্থাৎ বিদ্বান! খুনি কোনো পাগল বা ম্যানিয়াক নয়তো!

আবরার গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,

-খুনি র‌্যান্ডম খুন করে যা ইচ্ছা লিখে ক্রাইম সিনে ছেড়ে আসছে বলে আমার মনে হয় না স্যার।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শত্রুর অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ অতন্দ্র প্রহরীদের মতো তীক্ষè দৃষ্টিতে আবরারের দিকে তাকালেন জালাল সাহেব।

-তো মিস্টার ডিডি। তুমি শুনেছি ডাক্তারি পাস করার পর জাপান থেকে পিএইচডিও করেছ। তো ডাবল ডক্টর ডাকে আপত্তি নেই তো?

লাজুক হেসে মাথা নেড়ে জানাল আবরার। তার আপত্তি নেই। অবশ্য যেচে পড়ে কাউকে নিজের পিএইচডির কথা বলতে ওর তেমন ভালো লাগে না। আত্মপ্রচারের এই বাগাড়ম্বরতার যুগে এসেও আত্মপ্রচারে বড়ই অনীহা তার!

-তো ইয়াং ম্যান! তোমার কেন মনে হচ্ছে ঘটনাগুলো নিছক কোনো ম্যানিয়াকের মস্তিষ্কপ্রসূত বিকৃত পাগলামি নয়? মোটিভ কী হতে পারে বলে তোমার ধারণা?

জালাল সাহেবের কথা শেষ হতে না হতেই এবার মাহফুজ সাহেব বড় বড় চোখ করে আবরারকে উদ্দেশ করে বলে উঠলেন,

-দেখো ইয়াং ম্যান! আমি অনেক কোরিয়ান মুভিতে দেখেছি, কিলার ভিকটিম নির্বাচন করে একেবারে র‌্যান্ডমলি। আবার আমেরিকাতে দেখো না? কারণে-অকারণে ইচ্ছা হলেই রাইফেল নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে গিয়ে ব্রুম ব্রুম করে বাচ্চাদের ব্রাশফায়ার করে মেরে ফেলে? রিমান্ডে চেপে ধরতেই বলে, এসব নাকি তারা নিজেরা করে না। লুসিফার তাদের দিয়ে করায়। অনেকে তো আবার সিজোফ্রেনিক প্যারানয়েড রোগী সেজে পারও পেতে চায়! যতসব ভংচং!

মাহফুজ সাহেবের কণ্ঠে যথেষ্ট শ্লেষের উপস্থিতি লক্ষ করলেও যথাসম্ভব শান্ত কণ্ঠে বলে উঠল আবরার,

-স্যার, আপনারা লক্ষ করলে দেখবেন, প্রত্যেক ম্যানিয়াকের খুনের ক্ষেত্রে টার্গেট ভিকটিম এক বা একের বেশি হতে পারে। তারা একটা খুন করার পর তার আফটারম্যাথ বা আউটকাম নিয়ে কিন্তু তেমন মাথা ঘামায় না।

যেমন ধরুন, কোনো ম্যানিয়াক একটা র‌্যান্ডম বাচ্চাকে খুন করল নিজের বিকৃত রুচি চরিতার্থ করতে। ধরা যাক, কেউ তাদের লাশ গুম করতে দেখে ফেলল। সেই ক্ষেত্রে কিন্তু প্রমাণ লোপাটের জন্য তারা আরো খুন করবে। কিন্তু এই সিরিয়াল কিলিং কেসটা লক্ষ করুন। প্রতিটা মার্ডার এত ফরেনসিক রুলস মেনে চলা এবং এত ওয়েল এক্সিকিউটেড যে ম্যানিকদের মতো ক্রাইম স্পটের পরতে পরতে ক্লু ছেড়ে যাওয়ার কোনো অবকাশই নেই।

পুলিশ এবং আমরা, ফরেনসিক এক্সপার্টরা খুব ভালোভাবেই জানি, অপরাধী ক্রাইম সিনে নিজের অজান্তে কোনো না কোনো ক্লু রেখে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা সেই ক্লুই পাচ্ছি, যা খুনি বা খুনিরা আমাদের দিতে চাইছে। খুনিরা বলছি, কারণ আমার ধারণা, এটা একটা টিম ওয়ার্ক।

গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল উপস্থিত সবাই। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবরার আবার বলল,

আপনারা লক্ষ করেছেন কি না জানি না, ছদ্মবেশী খুনি প্রথম খুনের ক্ষেত্রে এমনভাবে বিস্ফোরণের টাইমিংটা সাজিয়েছে, যাতে টার্গেট ভিকটিম ছাড়া অন্য কেউ মারা না যায়।

তাই সাভারের পরিত্যক্ত এক গোরস্তানের পাশে বিস্ফোরণটা ঘটানো হয়েছে। আমার ধারণা, খুনি সম্ভবত নিজেই প্যাসেঞ্জার সেজে সিএনজি ভাড়া করেছে কাক্সিক্ষত বিস্ফোরণ ঘটানোর এলাকা সাভারে। আর গ্যাস বিস্ফোরণের এস্টিমেটেড টাইমিং ক্যালকুলেট করেই প্যাসেঞ্জার নেমে গিয়েছিল বলে আমার ধারণা।

আবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেখুন, সাদা পাউডারের মতো পটাশিয়াম সায়ানাইড হোটেলে লবণের সাথে মিশিয়ে টার্গেটকে সার্ভ করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে খুনি হোটেলের কোনো বয়ের ছদ্মবেশ নিয়েই ঢুকেছিল, হোটেলবয় আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আপনারা এটা জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু খুনির চেহারা সম্পর্কে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য জানা যায়নি।

আর তৃতীয় ক্ষেত্রে পুরোনো কাগজওয়ালার ছদ্মবেশ নিয়ে খুনি স্বপ্না রয়ের বোনের বাড়ি ঢুকেছিল, তদন্তে এতটুকু জানতে পারা গেছে। এ ক্ষেত্রে খুনির টিমওয়ার্কের প্রয়োজন হয়েছে বলে আমার ধারণা। কাগজ বিক্রির বাহানায় স্বপ্নাকে আটকে রেখে কোনো এক ফাঁকে কাউকে ভেতরে পাঠিয়ে রান্নাঘরে হলুদের কৌটায় পিকরিক অ্যাসিড মিশিয়েছিল। খুনির চেহারার বর্ণনা এ ক্ষেত্রেও সঠিকভাবে কেউ দিতে পারেনি। মাঝবয়সী একজন লোক কাগজ বিক্রেতা হিসেবে এসেছিল, যার চেহারা একেবারেই বিশেষত্বহীন-এইটুকু জানা গেছে। বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে স্বপ্না রায় ছাড়া অন্য কোনো মহিলা ছিল না, শুধু তার বোনের দশ বছর বয়সী ছেলে উপস্থিত ছিল।

এ ক্ষেত্রে এতটুকু পরিষ্কার যে খুনি চেয়েছে শুধু টার্গেট ভিকটিম ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষতি না হোক। কারণ ওই দিনসহ তার পরের দিন স্বপ্নার বোন আর বোনের স্বামীর একটা দাওয়াত উপলক্ষে বাড়ির বাইরে থাকার কথা। নিজের বোনের তত্ত্বাবধানে ছেলেকে রেখে গিয়েছিল স্বপ্নার বড় বোন।

লজিক্যালি, রান্নাঘরে স্বপ্না ছাড়া আর কারোরই যাওয়ার কথা ছিল না। কারণ বাড়িতে কোনো কাজের লোকও ছিল না আর ছোট ছেলেটা রান্নাঘরের ছায়াও মাড়াত না। সারা দিন খেলাধুলা নিয়েই ব্যস্ত থাকত।

-তার মানে তুমি বলতে চাইছ, খুনি ম্যানিয়াক হলে ভিকটিম নিয়ে এত স্টাডি করে খুনের পদ্ধতিকে এতটা নিñিদ্র করে তুলত না, বরং ঘেঁটে ছড়িয়ে ফেলার একটা সম্ভাবনা থেকে যেত?

অ্যাডিশনাল ডিআইজি স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে কালবিলম্ব করল না আবরার,

-একজ্যাক্টলি স্যার! এ ক্ষেত্রে খুনি যদি ম্যানিয়াক হতো, তাহলে কখনোই টার্গেট ভিকটিম বাদে আর কেউ যাতে মারা না যায়, সে ব্যাপারে এত সতর্ক থাকত না।

সবার মৌনতায় নিজের হাইপোথিসিসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা আরেকটু বাড়ল আবরারের। তার বক্তব্যে ছেদ পড়ল মাহফুজ সাহেবের কথায়,

-মানছি, এটা কোনো ম্যানিয়াকের কাজ নয়; কিন্তু এখানে তো কোনো ডেমোগ্রাফিক প্রোফাইলও মেইনটেইন করা হচ্ছে না। না কোনো নির্দিষ্ট পেশা, না কোনো নির্দিষ্ট বয়সের তরুণ বা তরুণী, না লিঙ্গভেদ, না কোনো দেহব্যবসায়ী! আর কোবাল্ট ক্লোরাইডের মতো হাই স্কুল গোয়িং বাচ্চাদের শেখানো টেকনিক দিয়ে গুপ্ত মেসেজ দেয়া হচ্ছে, যেই মেসেজের কোনো আগামাথা নেই!

রাগে গজগজ করতে করতে কোনোমতে বললেন মাহফুজ সাহেব।

-আপনি ঠিক ধরেছেন মাহফুজ স্যার। যতক্ষণ না পর্যন্ত কোবাল্ট ক্লোরাইডে লেখা তিনটা শব্দের মর্মোদ্ধার আমরা না করতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা যেই তিমিরে সেই তিমিরেই আছি বলা যেতে পারে। তবে আমার ধারণা, এ ক্ষেত্রে খুনির রেখে যাওয়া ক্লুতে খুনের মোটিভ সম্পর্কেই বলা আছে।

দীর্ঘ নীরবতা শেষে আবার উঠে দাঁড়ালেন আইজিপি জালাল সাহেব। স্মিতহাস্যে বলে উঠলেন,

-আমরা আশা করব, শীঘ্রই এই সিরিয়াল কিলিং কেসে আমরা অগ্রগতির মুখ দেখতে পাব। যাহোক, এবার আসল কথায় আশা যাক। ডিআইজি স্যারের অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিরিয়াল কিলিং কেসের তদন্তের কাজে আমার সঙ্গে থাকছে এসএসপি মাহফুজ সাহেব, আওয়ার নিউ মেম্বার, এএসপি-কাম-ডিটেকটিভ ট্রেইনি নিশাত নাহরিন অবন্তি এবং লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, আমাদের মেডিকেল টিমের সঙ্গে কাজ করার জন্য থাকছেন ফরেনসিক এক্সপার্ট ডা. আবরার ফাহাদ। ওয়েলকাম টু দ্য টিম কমরেডস!

 

ঠোঁটের কোনার ঝিলিকটা মুখ পর্যন্ত উৎসারিত হতে দিল অবন্তি, আড়চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে স্বগতোক্তি করে উঠল,

‘মিস্টার এএফ! তার মানে চোখে চোখে আমাদের খেলাটা এবার ভালোই জমবে বলে মনে হচ্ছে!’

লেখক পরিচিতি: চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মালিহা তাবাসসুমের এটি তৃতীয় উপন্যাস। গত বইমেলায় প্রকাশিত ‘জিগোলো’ উপন্যাসটি আলোচিত হয় বিষয়বস্তুর কারণে। তাবাসসুম সংগীতচর্চা করেন, বেতারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেন।

শিল্প ও সাহিত্য বিভাগে লেখা পাঠানোর ঠিকানা : ‍[email protected]
AD

সাম্প্রতিক

শার্শায় কৃষক লীগের বর্ধিত সভা

শার্শায় কৃষক লীগের বর্ধিত সভা

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২

আজিজ কো-অপারেটিভের চেয়ারম্যানের জামিন আবেদন খারিজ

আজিজ কো-অপারেটিভের চেয়ারম্যানের জামিন আবেদন খারিজ

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবিতে মানববন্ধন

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১১

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১১

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে হাইকোর্টের রুলের জবাব ৩০ মার্চের মধ্যে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে হাইকোর্টের রুলের জবাব ৩০ মার্চের মধ্যে

ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যা: সিলেটে অটোরিকশা চালক রিমান্ডে

ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যা: সিলেটে অটোরিকশা চালক রিমান্ডে

মহেশপুরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর ভোট বর্জন

মহেশপুরে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর ভোট বর্জন

ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স (পর্ব- ৮)

ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স (পর্ব- ৮)

ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স (পর্ব- ৭)

ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স (পর্ব- ৭)